নয়া দিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে চলেছেন বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইন্ডি জোট। সম্প্রতি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। রাজ্যসভায় জমা দেওয়া জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের নোটিস নিয়ে নতুন কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ফের জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণের নোটিস জমা দিতে চলেছেন রাহুল গান্ধীরা। এবার লোকসভায় নোটিস জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে রাজ্যসভায় নোটিস দিয়েছিল বিরোধীরা। তবে, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এই নোটিস গ্রহণ করেননি। এবার লোকসভাতেও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণের নোটিশ জমা দিতে চলেছেন। শুধু তাই নয়, বদলানো হবে রাজ্যসভার নোটিসের খোলনলচেও। কারণ তৃণমূলের তরফে স্বাক্ষর করা পুরনো নোটিশে এখন অনেকেই আর তৃণমূলে নেই বা তৃণমূলের সাংসদ নন। পাশাপাশি, সেই সময় তৃণমূলের উদ্যোগে আনা নোটিসে সই করেননি সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খার্গে।
সেই কারণেই পুরনো নোটিসে বেশ কিছু বদল করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। নতুন নোটিসে সই করবেন রাহুল গান্ধী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডি জোট। কবে কোথায় বৈঠক হবে, তা আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, বুধবারই ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র একটি প্রতিবেদন জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। তাতে বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়েন জ্ঞানেশ কুমার। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই দিনে নাকি চার বার প্রশ্ন তুলেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। এই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করেই সরব হওয়ার পরিকল্পনা করছে বিরোধীরা। আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবাল, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির মধ্যে এই নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা হয়। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে-সহ একাধিক নেতাদের সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জমা দেওয়া অপসারণের নোটিস নিয়ে কথা বলেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েনও।
