‘মিশন ডিডিএলজে’র প্রিমিয়ারে দর্শক সাড়ায় উচ্ছ্বসিত নির্মাতা

আধুনিক প্রজন্মের প্রেমের গল্পে ৯০ দশকের ভালোবাসার আবেগ, অপেক্ষা ও আন্তরিকতার ছোঁয়া নিয়ে নির্মিত হয়েছে আইস্ক্রিন অরিজিনাল রোম্যান্টিক-কমেডি ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’।
কমেডি, রোম্যান্স ও ফ্যামিলি ড্রামার মিশেলে নির্মিত এই ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ওয়েব ফিল্মটির জাঁকজমকপূর্ণ এক প্রিমিয়ার হয়ে গেল রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স।
যেখানে এর কলাকুশলীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শোবিজের অনেক তারকা। প্রিমিয়ারে এসে নজর কেড়েছেন আশনা হাবিব ভাবনা, মন্দিরা চক্রবর্তী, আজিজুল হাকিম, নাজমি জান্নাত, ইমতিয়াজ বর্ষণ, এসআরকে ইউনিভার্স বাংলাদেশ ফ্যান ক্লাবের কয়েকজন সদস্য ছাড়াও অনেকে।
মিশন ডিডিএলজে-র প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরী। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরমান বিন মাহমুদ, সাদিয়া ইসলাম জুই, শওকত শোভন, মাসুদ মহিউদ্দিন, শেখ স্বপ্না, শারমিন সুলতানা শর্মী, নিয়ন আহসান ও আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক। গল্প রচনা করেছেন আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক ও এম কে এ তুষার এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন আজহারুল ইসলাম অভি ও আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক।
ওয়েব ফিল্মটির গল্পে দেখা গেছে, ধ্রুব ও দিয়ার প্রেমের যাত্রা। আধুনিক সময়ের এই জুটি ৯০ দশকের একটি প্রেম কাহিনীর মূল্যবোধ ও আবেগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের ভালোবাসার গল্প গড়ে তুলতে চায়। সেই যাত্রায় বাধা-বিপত্তি, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রেমের নানা রঙ নিয়েই এগিয়ে যায় ‘মিশন ডিডিএলজে’-এর গল্প।
গল্পের পরতে পরতে রয়েছে বেশ কিছু টুইস্ট। প্রেম, হাস্যরস, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক ও নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে একটি ফিল-গুড রোম্যান্টিক কমেডি অভিজ্ঞতা, প্রিমিয়ার শেষে আগত অতিথি ও তারকারা এমনটাই জানান।
ধ্রুব চরিত্রে অভিনয় করা সাদ নাওভী বলেন, “কমেডি, রোম্যান্স ও ফ্যামিলি ড্রামার একটি দারুণ কম্বিনেশন ‘মিশন ডিডিএলজে’। এটি একটি ফিল-গুড গল্প। ক্লাসিক ধাঁচের একটি চরিত্রকে নিজের মতো করে আয়ত্ত করতে পারাটা তার জন্য দারুণ এক অনুভূতি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা বিশেষ ভালো লাগা দিয়েছে।”
দিয়া চরিত্রে অভিনয় করা লাবণ্য জানান, এই কাজের অভিজ্ঞতা তার জন্য ছিল দারুণ। তিনি বলেন, “৯০ দশকের প্রেমের গল্প আমার ব্যক্তিগতভাবেই খুব পছন্দ। তাই চরিত্রটি ধারণ করতে খুব বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়নি। তবে কিছু রিহার্সাল করতে হয়েছে। নাওভির সঙ্গে প্রথমবার জুটি গড়ে কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান প্রজন্মও গল্পটি উপভোগ করবে এবং নিজেদের প্রেমে সেই আবেগের ছায়া খুঁজে পাবে।”
ওয়েব ফিল্মটির নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক বলেন, “আমি যেহেতু ৮০ দশকে জন্ম এবং ৯০ দশকের রোমান্টিক গল্পগুলো দেখে বড় হওয়া, আমার চেষ্টা ছিল ৯০ দশকের ক্লাসিক লাভ স্টোরির মূল্যবোধ ও অনুভূতিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা। গল্প ও চরিত্রগুলো আধুনিক, কিন্তু তারা ৯০ দশকের প্রেমের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের ভালোবাসার গল্প গড়ে তুলতে চায়। তাই এটি একদিকে আধুনিক, অন্যদিকে নস্টালজিক।”
তিনি আরও বলেন, “দর্শক এখানে ক্লাসিক অনেক জনপ্রিয় রোমান্টিক চলচ্চিত্রের আবহ খুঁজে পাবেন। ডিডিএলজে এর পূর্ণ রূপ ‘ধ্রুব দিয়াস লাভ জার্নি’। অবশ্যই এর একটি লুকানো অর্থ আছে, তবে সবকিছু আগে বলে দিলে রহস্য নষ্ট হয়ে যাবে। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, বর্তমান জেনারেশন থেকে শুরু করে আমাদের মা-বাবা, দাদি-নানি র জেনারেশন পর্যন্ত সবাই গল্পটি পছন্দ করবে। কারণ তারা এই গল্পে তাদের পুরান মূল্যবোধ খুঁজে পাবে। দর্শক ওয়েব ফিল্মটি দেখে আশাহত হবেন না। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে উপভোগ করতে পারবেন।”
নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক জানান, তিনি গল্পটির জন্য একটি নতুন জুটির খোঁজ করছিলেন। নাওভী ও লাবণ্যকে পেয়ে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তার মতে, ‘মিশন ডিডিএলজে’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো নাওভী-লাবণ্যের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি, যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে।
নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, গল্পটি কোনো প্রচলিত বা টিপিক্যাল প্রেমের গল্প নয়। পুরোনো দিনের আবেগকে আধুনিক সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা। ওয়েব ফিল্মটিতে রয়েছে দুটি গান—একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের এবং অন্যটি রোমান্টিক ঘরানার।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নাওভী ও লাবণ্য জানান, ঢাকা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে প্রচণ্ড গরম ও হিট ওয়েভের মধ্যেও পুরো টিমকে অনেক কষ্ট করে কাজ করতে হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শুটিং ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবে সবার আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের ফলে কাজটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাহী প্রযোজক আশেক হোসেন তন্ময় বলেন, ‘এই প্রোজেক্টে কাজ করতে গিয়ে আমরা সবাই যেন একটি পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। টিমের প্রত্যেকের কাজে ছিল আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। সেই বন্ধনই পুরো টিমকে একসঙ্গে কাজ করার শক্তি জুগিয়েছে।’
নির্মাতা অর্ক ও নির্বাহী প্রযোজক তন্ময় ‘মিশন ডিডিএলজে’-এর মতো একটি বড় প্রজেক্টের দায়িত্ব ও আস্থা দেওয়ার জন্য ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এবং চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, একজন নির্মাতার প্রতি এমন বিশ্বাস ও স্বাধীনতা সৃজনশীল কাজের পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং নতুন কিছু করার সাহস জোগায়।
প্রিমিয়ার শোর অভিজ্ঞতার বিষয়ে নির্মাতা বলেন, “খুব এক্সাইটেড এবং নার্ভাস ছিলাম। পুরো টিম এর এতদিনের পরিশ্রমের ফল দর্শকদের সামনে আনার জন্য। কিন্তু দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে এখন নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশী ইতিবাচক রেসপন্স পেয়েছি। আমি খুব ই সন্তুষ্ট এবং পুরো টিম এর জন্য অনেক আনন্দিত।”
প্রেম, হাস্যরস, বন্ধুত্ব, পরিবার ও আবেগের এক অনন্য সমন্বয় নিয়ে নির্মিত ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডি ডি এল জে’ দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ৯০ দশকের ভালোবাসার অনুভূতিতে, একই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মকে দেখাবে সত্যিকারের ভালোবাসার নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি। ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত ১২টায় আইস্ক্রিনে দেখা যাবে মিশন ডিডিএলজে। এর বিনিময়ে লাগবে ১৫ টাকা অথবা আইস্ক্রিনের সাবস্ক্রিপশন।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
