রাতের পর রাত চোখের পাতায় ঘুম নেই! সারা দিনের ক্লান্তির পর বিছানায় শুয়েও এপাশ-ওপাশ করে রাত কেটে যাচ্ছে। কখনও ঘুম আসতে দেরি, কখনও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া—এই ধরনের সমস্যা দীর্ঘদিন চললে তাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। অনিদ্রার নেপথ্যে মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস, কিছু অসুখ বা ওষুধের পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতিরও ভূমিকা থাকতে পারে।

বিশেষ করে ভিটামিন B12, ভিটামিন D এবং ম্যাগনেশিয়াম নিয়ে ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে শুধু এই তিনটির ঘাটতিই যে অনিদ্রার কারণ, এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ নেই।

– বিজ্ঞাপন –

ভিটামিন B12

স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ এবং রক্তের লোহিত কণিকা তৈরিতে ভিটামিন B12 গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ২.৪ মাইক্রোগ্রাম। B12-এর ঘাটতিতে দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং রক্তাল্পতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘুমের সঙ্গেও B12-এর সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে, যদিও ঘাটতি পূরণ করলেই অনিদ্রা সেরে যাবে—এমন প্রমাণ নেই।

কী খাবেন?
মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার B12-এর ভালো উৎস। নিরামিষ খাবারে প্রাকৃতিকভাবে B12 সাধারণত থাকে না; তবে কিছু fortified খাবারে B12 যোগ করা থাকে। পালং শাক বা বিটকে B12-এর উৎস হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

ম্যাগনেশিয়াম

স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কাজ-সহ শরীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেশিয়ামের প্রয়োজন। খাবার থেকে পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম পাওয়ার জন্য নিয়মিত সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম, বীজ ও গোটা শস্য খাওয়া যেতে পারে।

কী খাবেন?
কুমড়োর বীজ, চিয়া বীজ, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পালং শাক, ডাল, গোটা শস্য, দই ও অন্যান্য কিছু খাবারে ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে ম্যাগনেশিয়াম খেলেই অনিদ্রা দূর হবে—এমনটা বলা যায় না। ঘুমের সমস্যায় ম্যাগনেশিয়াম ব্যবহারের গবেষণার ফল এখনও সীমিত ও অসঙ্গতিপূর্ণ।

ভিটামিন D

ভিটামিন D-এর ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যা বা খারাপ ঘুমের মানের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে। তবে এখানেও সম্পর্ক পাওয়া গেছে মানেই সরাসরি কারণ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। ভিটামিন D সাপ্লিমেন্ট নিলেই অনিদ্রা সেরে যাবে, এমন সিদ্ধান্তও গবেষণা সমর্থন করে না।

কী খাবেন?
ভিটামিন D-এর প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস খুব বেশি নয়। তৈলাক্ত মাছ, যেমন স্যামন, টুনা বা ম্যাকারেল, ভালো উৎস। ডিমের কুসুম, কিছু পরিমাণ চিজ এবং UV-আলোয় প্রক্রিয়াজাত মাশরুমেও ভিটামিন D পাওয়া যায়। এ ছাড়া vitamin-D fortified দুধ বা অন্যান্য খাবার থেকেও পাওয়া সম্ভব।

শুধু খাবার বদলালেই কি অনিদ্রা সারবে?

সবসময় নয়। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে তার কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। পুষ্টির ঘাটতি সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তপরীক্ষা করা যেতে পারে। নিজের ইচ্ছায় বেশি মাত্রায় ভিটামিন D বা ম্যাগনেশিয়ামের সাপ্লিমেন্ট শুরু করাও ঠিক নয়।

অর্থাৎ, অনিদ্রার চিকিৎসায় শুধু কোনও একটি ভিটামিন বা খনিজের উপর নির্ভর না করে ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ, অন্য শারীরিক সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির মাত্রা—সব দিকই বিবেচনা করা জরুরি। সেই জন্যই দীর্ঘ দিন এই সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *