খবর অনলাইন ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ফের যেন উত্তমকুমারের শহর হয়ে উঠল কলকাতা। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শহর জুড়ে দেখা গেল তাঁকে ঘিরে আবেগ ও শ্রদ্ধার আবহ। শহরের পরিচিত বিভিন্ন জায়গায় সাজানো হয়েছে তোরণ, বসানো হয়েছে বিশাল কাট-আউট ও পোস্টার। উত্তমকুমারের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্থানও তাঁর স্মৃতিতে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়।

টালিগঞ্জ থেকে ভবানীপুরের পারিবারিক বাড়ি, উত্তর কলকাতার আহিরীটোলা স্ট্রিটে তাঁর জন্মস্থান—মহানায়কের জন্মশতবর্ষে কলকাতার একাধিক প্রান্তে যেন থমকে দাঁড়াল শহর। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের সঙ্গে যে নামটি আজও সমার্থক, সেই উত্তমকুমারকে স্মরণ করেই আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচি।

– বিজ্ঞাপন –

বিজলী সিনেমার পাশে বিশাল কাট-আউট

ভবানীপুরে বিজলী সিনেমার পাশে প্রায় ২০ ফুট উঁচু একটি বিশাল কাট-আউট পথচলতি মানুষের নজর কাড়ে। মহানায়কের পরিচিত মুখের এই বিশাল প্রতিকৃতি জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

টালিগঞ্জেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় উত্তমকুমারকে। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সারা বছর ধরে একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে মহানায়কের জীবন, অভিনয় এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানকে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভবানীপুরে উত্তমকুমারের পারিবারিক বাড়িতেও ছিল বিশেষ আয়োজন। এই বাড়িটি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলির অন্যতম। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন চলচ্চিত্রজগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বহু শিল্পী মহানায়কের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এই বিশেষ দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত পরেছিলেন বিশেষ ভাবে তৈরি একটি শাড়ি। শাড়িটির পাড়ে ছিল চলচ্চিত্রের ফিল্ম-রিলের নকশা। সেই নকশার মধ্যেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাঙালির সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র জুটিগুলির অন্যতম—উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেনের যুগল উপস্থিতি। পোশাকের মাধ্যমেও মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অভিনেত্রী।

বিজ্ঞাপন

আলোয় সেজেছে আহিরীটোলা স্ট্রিটে জন্মস্থান

উত্তর কলকাতার ৫১, আহিরীটোলা স্ট্রিটেও ছিল বিশেষ আয়োজন। এই ঐতিহাসিক বাড়িটিই উত্তমকুমারের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাড়িটিকে আলোয় সাজানো হয়। বিভিন্ন পোস্টার, ছবি এবং মহানায়কের স্মৃতিচিহ্নে সেজে ওঠে ঐতিহাসিক বাড়িটি।

ভবানীপুরেও তৈরি করা হয় বিশাল একটি তোরণ। সেখানে উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছাবার্তা তুলে ধরা হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পর্দায় তাঁর উপস্থিতি বহু দশক আগে থেমে গেলেও বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে উত্তমকুমার এখনও কতটা জীবন্ত।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তমকুমারের অবদান শুধু তাঁর অভিনীত অসংখ্য জনপ্রিয় ছবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর ব্যক্তিত্ব, অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন এবং সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর পর্দার রসায়ন তাঁকে বাঙালির কাছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত করেছে। তাই জন্মশতবর্ষে কলকাতার এই সম্মিলিত শ্রদ্ধা আসলে মহানায়কের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *