নয়া দিল্লি:  চিনে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। ইতিমধ্যেই বেজিংয়ের (Beijing) উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সেখানে মঙ্গলবার ভারত-চিন (India-China) সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ‘স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ’’ বৈঠকে যোগ দেবেন। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা LAC-তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমানোই বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে সূত্রের খবর।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ডোভালের এই বেজিং সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের প্রেসিডেন্ট ভারতে আসতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বেজিং বা নয়া দিল্লির তরফে।

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় কী?

সূত্রের খবর, অজিত ডোভাল এবং ওয়াং ই LAC-র বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি অঞ্চলে চিনা সেনার তৎপরতা বৃদ্ধির খবর সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তে নতুন করে যাতে উত্তেজনা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

ভারত ও চিনের মধ্যে প্রায় ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ‘স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ’ ব্যবস্থার অধীনে এই সীমান্ত সমস্যার সমাধানে উভয়পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন ডোভাল এবং ওয়াং।

২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্তে সেনা পিছিয়ে নেওয়া বা ‘ডিসএনগেজমেন্ট’ নিয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, তার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সীমান্তে ভারতীয় সেনার টহলদারির অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে দু’দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

সীমান্ত নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা

WMCC কাঠামোর অধীনে গঠিত বিশেষজ্ঞ দলের কাজ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। উপযুক্ত কয়েকটি ক্ষেত্রে সীমান্ত নির্ধারণের প্রাথমিক পদক্ষেপ কীভাবে করা যায়, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে এই দল।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সম্মেলন হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দিতে পারেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তার আগে সীমান্তে উত্তেজনা কমিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করাই ডোভাল-ওয়াং বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। শেষবার ২০২৫ সালের অগস্টে চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO শীর্ষ সম্মেলনে সাক্ষাৎ হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শি জিনপিংয়ের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *