ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে শুধু প্রসাধনী বা বাহ্যিক পরিচর্যাই নয়, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, জলপান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চারও ভূমিকা রয়েছে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়েছে ‘ফেসিয়াল যোগা’ বা মুখের পেশির নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম। নিয়মিত এই অনুশীলনের মাধ্যমে মুখের পেশি সক্রিয় ও শিথিল করার চেষ্টা করা হয়।
১. কপাল শিথিল করার ব্যায়াম
– বিজ্ঞাপন –
দুই হাতের তালু আলতো করে কপালের উপর রাখুন। হালকা চাপ দিয়ে হাত দু’টি কপালের মাঝখান থেকে দু’পাশে নিয়ে যান। ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড এই অনুশীলন করতে পারেন। এর মূল উদ্দেশ্য কপালের পেশিতে জমে থাকা টান কমানো এবং মুখকে কিছুটা relaxed রাখা।
২. চোখের চারপাশের মৃদু ব্যায়াম
ভ্রুর নিচে তর্জনী আঙুল আলতো করে রাখুন। সামান্য প্রতিরোধ তৈরি করে চোখ বড় করে খোলার চেষ্টা করুন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুন। ৫ থেকে ৭ বার করা যেতে পারে। চোখের চারপাশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় কোনও রকম জোরে চাপ বা ঘষাঘষি করা উচিত নয়।
৩. গাল উত্তোলনের ব্যায়াম
বিজ্ঞাপন
দাঁত না দেখিয়ে হালকা হাসুন। গালের উপর আঙুলের ডগা রেখে গাল সামান্য উপরের দিকে তুলুন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুন। ৮ থেকে ১০ বার করা যেতে পারে। এই ধরনের ব্যায়ামের লক্ষ্য মূলত মুখের পেশিকে সক্রিয় রাখা।
৪. ঠোঁট ও মুখের পেশির অনুশীলন
ঠোঁট গোল করে কয়েক সেকেন্ড রাখুন। এরপর মুখ স্বাভাবিক করে প্রশস্তভাবে হাসুন। এই দুই ভঙ্গি পালা করে ৮ থেকে ১০ বার করতে পারেন। মুখের চারপাশের পেশির নড়াচড়া ও সচেতনতা বাড়ানোই এই অনুশীলনের উদ্দেশ্য।
৫. চোয়াল শিথিল করার ব্যায়াম
অনেকেরই মানসিক চাপের সময় অজান্তে চোয়াল শক্ত হয়ে থাকে। ধীরে শ্বাস নিয়ে মুখ সামান্য খুলুন এবং চোয়াল আলগা রাখুন। এরপর আঙুলের ডগা দিয়ে চোয়ালের দু’পাশে খুব হালকা হাতে মালিশ করতে পারেন। ব্যথা বা অস্বস্তি হলে এই অনুশীলন বন্ধ করা উচিত।
৬. ঘাড় ও চিবুকের স্ট্রেচ
মাথা খুব সামান্য পিছনের দিকে কাত করে উপরের দিকে তাকান। ঘাড়ের সামনের অংশে হালকা টান অনুভূত হলে কয়েক সেকেন্ড সেই অবস্থায় থাকুন। এরপর ধীরে মাথা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন। ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বা কোনও সমস্যা থাকলে এই ধরনের স্ট্রেচ করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৭. পুরো মুখের রিল্যাক্সেশন
সোজা হয়ে বসে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। এরপর কপাল, গাল, চোয়াল ও চিবুকের অংশে আঙুলের ডগা দিয়ে খুব হালকা tapping করতে পারেন। এক থেকে দুই মিনিটের এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য মুখের পেশিকে শিথিল করা এবং নিজের শরীরের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো।
সাবধানতা জরুরি
মুখের ত্বক ও চোখের চারপাশের অংশে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। ব্যায়াম করার সময় ব্যথা, মাথা ঘোরা, ত্বকে জ্বালা বা অন্য কোনও অস্বস্তি হলে তা বন্ধ করতে হবে। যাঁদের চোয়াল, ঘাড় বা মুখে নির্দিষ্ট কোনও সমস্যা রয়েছে, তাঁরা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ফেসিয়াল এক্সারসাইজ শুরু করাই নিরাপদ।
