খবর অনলাইন ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি গর্জে উঠতেই একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (বিসিআই)। হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বিসিআই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিল তারা।
বৃহস্পতিবার বার কাউন্সিল প্রথমে জানিয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হায়দ্রাবাদের আইন কলেজ ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ-এর (নালসার) ২০২৬ সালের কোনো স্নাতককে রাজ্য বার কাউন্সিলগুলিতে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত করা যাবে না। পরে রাতে সেই সিদ্ধান্ত বদলে জানানো হয়, সব পড়ুয়াই নিজেদের পছন্দের রাজ্য বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত হতে পারবেন।
– বিজ্ঞাপন –
নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করে পড়ুয়াদের একাংশ প্রচার করে বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই প্রথম নির্দেশ জারি করেছিল বিসিআই।
প্রথম চিঠিতে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র নালসারের উপাচার্য এবং সব রাজ্য বার কাউন্সিলকে জানান, ২০২৬ সালের স্নাতকদের নথিভুক্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে ওই প্রচার কে শুরু করেছিলেন, কে তা সংগঠিত করেছিলেন এবং কারা পড়ুয়াদের একত্রিত করেছিলেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়। উল্লেখ্য, মনন কুমার মিশ্র বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ।
ককরোচ জনতা পার্টির হুঁশিয়ারি
এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি হুঁশিয়ারি দেয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “সব আইনসিদ্ধ ককরোচ যদি একসঙ্গে আসে, তা হলে কী হবে?” তাঁর এই মন্তব্যের সূত্রপাত হয়েছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক থেকে। প্রধান বিচারপতি পরে স্পষ্ট করেছিলেন যে, তাঁর মন্তব্য ভুলভাবে বোঝা হয়েছিল।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে কাকে প্রধান অতিথি করা হবে, তা নিয়ে পড়ুয়ারা মত প্রকাশ করলে তার জন্য গোটা ব্যাচকে শাস্তি দেওয়া “অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক”।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার না হলে আইন পড়ুয়া, আইনজীবী, প্রবীণ আইনজীবী এবং তরুণ ককরোচদের নিয়ে বার কাউন্সিলের দফতর, মিশ্রের সরকারি বাসভবন এবং বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ করা হবে। মনন কুমার মিশ্রকে ট্যাগ করে তিনি বলেন, তাঁর “জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে”।
অবস্থান বদল বার কাউন্সিলের
তবে রাতেই অবস্থান বদলায় বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। নতুন চিঠিতে জানানো হয়, আগের নির্দেশ নিয়ে কাউন্সিল বিস্তারিত আলোচনা করেছে। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, নালসারের ২০২৬ সালের স্নাতকদের “বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ” ওই বিতর্কিত উদ্যোগে যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন না এবং তাঁরা নির্দোষ।
সেই কারণেই আগের নির্দেশ সংশোধন করা হয়েছে বলে জানায় কাউন্সিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নালসারের ২০২৬ সালের সব স্নাতকই নিজেদের পছন্দের রাজ্য বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারবেন।
অর্থাৎ, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নালসারের ২০২৬ সালের স্নাতকদের উপর জারি করা নথিভুক্তি-নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারতের বার কাউন্সিল।
