ছবির উৎস, BSS
“সংসদীয় গণতন্ত্রে সেটি ছিল প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শুরুর ঠিক আগেই জাতীয় সংসদের সংসদের অধিবেশন কক্ষে একসাথে ঢুকলো আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সাজেদা চৌধুরীসহ অনেকেই। প্রকাশ্যে ভোট আয়োজন নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ করছিলেন তারা। চিৎকার করে বলছিলেন ‘শেইম, শেইম’।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ওই নির্বাচনের পোলিং অফিসার মিহির সারওয়ার মোর্শেদ।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরার পর ওই বছরই অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয় বাংলাদেশে। ৯১’র জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। আর বিরোধী দলে যায় আওয়ামী লীগ।
ওই বছরেই আটই অক্টোবর সংসদীয় গণতন্ত্রে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।
ওই নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ওই দুইজনই। নির্বাচন শেষে ফলাফলে মি. বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর তার বিপরীতে ৯২টি ভোট পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মি. চৌধুরী।
নির্বাচনে সংরক্ষিত এমপিসহ ৩৩০ জন ভোটার থাকলেও ভোট দিয়েছিল মাত্র ২৬৪ জন। আর ভোট দেননি ৬৬জন এমপি।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে ওই নির্বাচনের পর গত ৩৫ বছরে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও একক প্রার্থী থাকায় কোন ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি।
গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই নির্বাচনে বিরোধীদলও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জামায়াত এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়েছে।
এই নির্বাচন নিয়ে মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সাথে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনে সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ২০শে অগাস্ট দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষেই এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের সব নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে। ভোট প্রকাশ্যে হওয়ায় কোন সংসদ সদস্য বিপক্ষ দলের প্রার্থীকে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কী-না সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
এর জবাবে, নির্বাচন কমিশন, সংবিধান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দুই ধরনের বক্তব্যও পাওয়া গেছে।
কেউ কেউ মনে করে কোনো এমপি তার দলের বিপক্ষে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সদস্য পদ বাতিল হবে।
তবে সংসদ গবেষকদের অনেকই আবার বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রম বা সংসদের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীর অংশ নয়।
ছবির উৎস, SONGRAMER NOTEBOOK
বিতর্ক সমালোচনা সেই শুরু থেকেই
১৯৯১ সালে বাংলাদেশের পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপি’র ছিল ১৪০টি, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি, বাকশালের ৫টি এবং সিপিবির ৫টি আসন। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি।
কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি ওই নির্বাচনে। পরে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠন করে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর আবার সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়। রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত করার বিধানও ফিরিয়ে আনতে ওই সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনও তৈরি করা হয়।
ওই আইন প্রণয়নের সাথে জড়িত ছিলেন তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “নতুন পদ্ধতিতে ফেরার পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দ্রুতই আইন প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল”।
১১৯১ সালে অগাস্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইন প্রণয়নের পর, সেপ্টেম্বর নির্বাচনের বিধিমালাও প্রস্তুত করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ৮ই অক্টোবর সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আয়োজন করে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। সেই সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুর রউফ।
৯ই অক্টোবরে দৈনিক সংবাদের খবরে বলা হয়, ‘সংসদ কক্ষে স্পিকারের বিশাল চেয়ারটির বদলে একটি ছোট চেয়ার বসানো হয়। এতে উপবিষ্ট ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ঠিক বেলা ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়’।
খবরে বলা হয়, ২টা তিন মিনিটে খালেদা জিয়ার ভোটদানের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল ভোটগ্রহণ। পরবর্তীতে আব্দুর রহমান বিশ্বাস, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ বিএনপি প্রার্থীরা একে একে ভোট দেন।
ওই নির্বাচনের পোলিং অফিসার মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানান, ওই নির্বাচনে সংসদের অধিবেশন কক্ষে চারটি বুথ বসানো হয়েছিল।
তিনি বলছিলেন, “আমি ছিলাম খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পোলিং অফিসার। আমার ওখানে বিএনপির ব্যারিস্টার নামজুল হুদা ও আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ পোলিং এজেন্ট ছিল। সংসদ সদস্যরা যখন একে একে আসছিল তখন আমাদের সামনেই এমপিরা রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিচ্ছিল”।
তার দেওয়া তথ্য মতে, ভোটদানের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে নোট রাখছিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুইজন পোলিং এজেন্ট।
তিনি জানান, সেই সংসদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বর্তমান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ছিলেন স্বতন্ত্র সংসদ।
“তারা দুইজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হলেও তারা আমাদের সামনেই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন। সেটি পোলিং এজেন্টসহ নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে আমরাও দেখেছি”, বলছিলেন মি. মোর্শেদ।
১৯৯১ সালের ৯ই অক্টোবরের দৈনিক সংবাদের খবরে বলা হয়, বেলা সোয়া দুইটায় মোহাম্মদ নাসিমসহ ২০/২৫ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ করার প্রতিবাদ ও আপত্তি জানান”।
সেই প্রসঙ্গ টেনে ওই নির্বাচনের পোলিং অফিসার মি. মোর্শেদ বলছিলেন, “মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিমসহ অন্য আওয়ামী লীগ নেতারা ঢুকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে স্পিকারের জায়গায় দেখে শেইম, শেইম বলে হট্টগোল করেন। ওনারা প্রকাশ্যে ভোট নিয়ে তাদের ক্ষোভ জানিয়ে বলেছিল- এই ধরনের প্রকাশ্যে ভোট রাষ্ট্রপতির আইনকে কলুষিত করছে”।
পরবর্তীতে বিকেল ৫টা ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করা হয়। ১৭২ ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
দৈনিক সংবাদের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আব্দুর রহমান বিশ্বাস তখন দুই স্বতন্ত্র এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং নুরুল ইসলাম মনির ভোটও পেয়েছিলেন।
ছবির উৎস, SCREEN GRAB
এবারের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে যেভাবে
গত মাসে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের পর চলতি মাসের শুরুতে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করে।
প্রথমে ঘোষণা না আসলেও এ সপ্তাহেই জামায়াত-এনসিপি জোট এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি জানায়। এই জোট থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদকে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে একটি ব্রিফিংয়ে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিএনপি প্রার্থীর কে হবেন সেটি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার পরই জানা যাবে। সেটি মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই সবাই জানতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এদিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সাথে বৈঠক করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। সেখানে তিনি এই নির্বাচন কিভাবে হবে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ইসি সচিব বলেন, “ভোটের জন্য (সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানিয়ে) সংসদ কক্ষে বৈঠক আহ্বান করবেন সিইসি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন ভবনে ১৩ অগাস্ট মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ১৬ অগাস্ট ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ অগাস্ট এবং সংসদ কক্ষে ভোট ২০ অগাস্ট।
ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচনী কর্মকর্তাকে সহায়তায় ইসির ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন, সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োজিত হবেন।
এই নির্বাচনে ৩৪৯ জনের ভোটার তালিকা এরই মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের। চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থিতা বাতিল হয় আদালতে।
ভোটদান পদ্ধতি বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, “সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে বসবেন। আমরা তাদের কাছে ব্যালট পেপারটা পৌঁছে দিব। সংসদ সদস্যরা প্রার্থীর নামের পাশে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষর ও বিভক্তি সংখ্যা লিখে ব্যালট পেপার বাক্সে রাখবেন”।
ইসি জানিয়েছে, ২০শে অগাস্ট দুপুর দুইটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ভোট শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা করা হবে এবং প্রাথমিক ফলাফল সেখান থেকেই ঘোষণা করা হবে।
চিফ হুইপ সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমকে সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতের কার্যক্রমও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
ছবির উৎস, BBC/MUKIMUL AHSAN
প্রকাশ্যে ভোট, বিরুদ্ধে গেলে পদ বাতিল?
এ সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সদস্য থাকায় ক্ষমতাসীন দলটির প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবে মোটামুটি নিশ্চিত। তবুও বিরোধী দল প্রার্থী দেওয়ায় ভোটে গড়াল এবার।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় প্রকাশ্যে। ফলে, ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে কত ভোট পাবেন এবং কে জিতবেন, তা নির্ধারণে সংসদের দলীয় আসন সংখ্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালুর পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচনের বিধান করা হয়। এবং সেখানে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার বিধান চালু করা হয়।
সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলছেন, “১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার বিধান চালু হয়। সেই আইনটি এখনো বলবৎ রয়েছে। তাই একদিকে যেমন ব্যালটেও নাম থাকবে অন্যদিকে তার সাক্ষরও থাকবে”।
প্রকাশ্যের ভোট দেওয়ার বিধান নিয়ে এই বিতর্ক ১৯৯১ সালেও ছিল। প্রকাশ্যে ভোট হওয়ায় কেউ কি দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন কী-না সেই প্রশ্নও সামনে আসছে?
এই প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে সংবিধানের ৭০ এর অনুচ্ছেদের কথাও বলছেন কেউ কেউ। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।
তবে, সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “কোনো সংসদ সদস্য যদি যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদে আনীত কোনো প্রস্তাবের ওপর সেই দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন অথবা দল থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে তাঁর আসন শূন্য হবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রম বা সংসদের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীর অংশ নয়; এটি সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের অর্থে “সংসদে ভোটদান” হিসেবে গণ্য করা যায় না”।
একই মত অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদেরও। তিনিও মনে করেন কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে না।
তবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ মনে করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া যাবে না। কেউ যদি দলের বিপক্ষে ভোট দেয় তাহলে তার পদ বাতিল হবে।
বিবিসি বাংলাকে মি. মাছউদ বলেন, “কেউ যদি ভোট দিয়ে ফেললে সে তার চেয়ার হারাবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি আসবে। নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই ঘোষণা দিবে”।
