খবর অনলাইন ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে টানা ন’দিন ধরে অনশন করা জেএলকেএম নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার বিধানসভা অভিযানে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে অনেকটা কমে যায়। চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা সংকটজনক বলে জানিয়েছেন।

রাঁচি সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ন্যান্সি প্রিয়া জানান, দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় শারীরিক পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে।

– বিজ্ঞাপন –

মাহাতোর সহযোগী পঙ্কজ কুমারের দাবি, বিধানসভার কাছে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে তিনি আহত হন। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও মাহাতো এদিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিধানসভা অভিযানে যোগ দেন। একটি অ্যাম্বুল্যান্সে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের প্রতিকৃতি নিয়ে তিনি আন্দোলনস্থলে পৌঁছন। পরে স্ট্রেচারে দাঁড়িয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।

কী বললেন দেবেন্দ্রনাথ

মাহাতো বলেন, “সরকার লাঠি, গুলি আর বন্দুক দিয়ে চালানো যায় না। মানুষের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করেই সরকার চালাতে হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমি ন’দিন ধরে অনশন করছি। তা সত্ত্বেও পুলিশ আমাকে ধাক্কা দিয়েছে, হেনস্থা করেছে এবং জোর করে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে দিয়েছে। কিন্তু আমি এই লড়াই চালিয়ে যাব।”

পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের অভিযোগও তোলেন মাহাতো। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের রাঁচিতে পৌঁছনো আটকাতে বিভিন্ন জেলায় যাত্রীবাহী গাড়ি থামানো হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিধানসভা যাওয়ার পথে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল এবং তার উপরে কাঁটাতার লাগানো ছিল। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করা হয় বলেও তাঁরা দাবি করেন।

মাহাতোর বক্তব্য, এত কিছুর পরেও আন্দোলনকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে কোনও স্লোগান দেননি। তিনি জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে এই আন্দোলন চলছে। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষিত করাই তাঁদের মূল দাবি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “এই লড়াই আমার জন্য নয়, রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর জন্য।” সরকারের প্রতিক্রিয়ার উপরেই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।

মাহাতোর দাবি, সোমবারের আন্দোলনের পরও সরকার যদি তাঁদের দাবি না মানে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন বার্তা যাবে যে মুখ্যমন্ত্রীও নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং তাঁকে পদ ছাড়তে হতে পারে।

কাঁটাতারের ব্যারিকেডের বিরোধিতা

এর আগে বিধানসভা অভিযানের পথে কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানোরও বিরোধিতা করেছিলেন মাহাতো। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ধরনের ব্যবস্থা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আন্দোলনকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে মাহাতো বলেন, “ঝাড়খণ্ডকে নতুন ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে গিয়ে যদি আমার মৃত্যু হয়, তাতেও ভুল কিছু নেই। কারণ ঝাড়খণ্ড তৈরির জন্য বহু মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ন’দিন না খেয়ে থাকার পরও আন্দোলনে যোগ দিতে তাঁকে আটকাতে পারেনি কেউ এবং পুলিশ প্রশাসন কাপুরুষের মতো আচরণ করেছে।

এদিকে, সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভার কাছে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা বিধানসভার কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী এবং চারজন পুলিশকর্মী আহত হন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *