খবর অনলাইন ডেস্ক: নাগরিকবোধ বা সিভিক সেন্স শুধু বড়ো কোনও কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাস্তায় আবর্জনা না ফেলা, গণপরিবহণে নিয়ম মেনে চলা, দুর্ঘটনার পর বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করা কিংবা ঘুষ দেওয়াকে সমর্থন না করার মতো ছোট ছোট আচরণেই নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ ঘটে।

২০২৫ সালের গ্রস ডোমেস্টিক বিহেভিয়ার বা জিডিবি সমীক্ষায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের এই ধরনের নাগরিক আচরণ ও মানসিকতার একটি চিত্র উঠে এসেছে। ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপ, হাউ ইন্ডিয়া লিভস এবং কেডেন্স ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে এই সমীক্ষা চালানো হয়। দেশের ২১টি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৯,১৮৮ জনের মতামত নেওয়া হয়েছিল। নাগরিক আচরণের পাশাপাশি জননিরাপত্তা, লিঙ্গ-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈচিত্র্য ও বৈষম্যের মতো বিষয়ও সমীক্ষায় গুরুত্ব পেয়েছে।

– বিজ্ঞাপন –

নাগরিকবোধ ও দায়িত্বশীল জনআচরণের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা ১০টি রাজ্য হল—

১. তামিলনাড়ু

তালিকার প্রথম স্থান দখল করেছে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু। নাগরিক আচরণের ক্ষেত্রে এই রাজ্যের বাসিন্দাদের সামগ্রিক মনোভাব সবচেয়ে ইতিবাচক ছিল। বিশেষ করে ঘুষ সংক্রান্ত প্রশ্নে তামিলনাড়ুর ফলাফল উল্লেখযোগ্য। রাজ্যের ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা ঘুষ দেওয়া বা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে—এই ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে অসম্মতি জানিয়েছেন।

২. পশ্চিমবঙ্গ

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। দুর্ঘটনার পরে আহত বা বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করার মানসিকতার ক্ষেত্রে রাজ্যটি সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। সমীক্ষায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা দুর্ঘটনা চোখের সামনে ঘটলে দাঁড়িয়ে সাহায্য করবেন এবং পুলিশ বা অ্যাম্বুল্যান্সে খবর দেবেন।

বিজ্ঞাপন

৩. ওড়িশা

তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওড়িশা। জনদায়িত্ববোধের বিভিন্ন সূচকে রাজ্যটির ফলাফল ভালো। ঘুষের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাবের ক্ষেত্রেও ওড়িশা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রাজ্যের ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ঘুষ দেওয়া কখনও কখনও প্রয়োজন—এই ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়।

৪. দিল্লি

চতুর্থ স্থানে রয়েছে দিল্লি। তালিকায় থাকা একমাত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে দিল্লি নাগরিক আচরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ফল করেছে। গণপরিবহণে টিকিট না কেটে বা প্রয়োজনীয় ভাড়া না দিয়ে যাতায়াতের বিষয়ে দিল্লির উত্তরদাতাদের মধ্যে দায়িত্বশীল মনোভাব দেখা গিয়েছে। এই প্রশ্নে দিল্লি প্রথম স্থানে রয়েছে।

৫. কেরল

পঞ্চম স্থানে রয়েছে কেরল। জনপরিচ্ছন্নতা এবং সরকারি পরিষেবার দায়িত্বশীল ব্যবহারের মতো বিষয়ে রাজ্যটি ভালো ফল করেছে। রাস্তায় আবর্জনার বাক্স না থাকলে রাস্তায় ময়লা ফেলা যায় কি না—এই প্রশ্নে কেরল প্রথম স্থান পেয়েছে। অর্থাৎ, আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকলেও রাস্তায় ময়লা ফেলা উচিত নয়—এমন মনোভাবই বেশি দেখা গিয়েছে।

৬. হরিয়ানা

ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতার ক্ষেত্রে রাজ্যটির ফল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের প্রশ্নে হরিয়ানা প্রথম স্থানে রয়েছে। রাজ্যের ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত।

৭. ঝাড়খণ্ড

সপ্তম স্থানে রয়েছে ঝাড়খণ্ড। দৈনন্দিন নাগরিক আচরণ এবং জনপরিসরে দায়িত্বশীলতার বেশ কিছু সূচকে রাজ্যটি ভালো ফল করেছে। রাস্তায় আবর্জনা ফেলা এবং টিকিট ছাড়া গণপরিবহণে যাতায়াতের মতো বিষয়ে ঝাড়খণ্ডের উত্তরদাতাদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে দায়িত্বশীল মনোভাব দেখা গিয়েছে।

৮. হিমাচল প্রদেশ

অষ্টম স্থানে রয়েছে হিমাচল প্রদেশ। আবর্জনা ফেলা, টিকিট ছাড়া যাতায়াত এবং ঘুষ সংক্রান্ত প্রশ্নে রাজ্যের উত্তরদাতাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গিয়েছে। রাস্তায় ময়লা ফেলার বিষয়ে হিমাচল প্রদেশ জাতীয় স্তরে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

৯. উত্তরাখণ্ড

নবম স্থানে রয়েছে উত্তরাখণ্ড। পরিবেশ সচেতনতা এবং সরকারি পরিষেবার দায়িত্বশীল ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্যটি ভালো ফল করেছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের প্রশ্নে উত্তরাখণ্ড জাতীয় স্তরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

১০. মহারাষ্ট্র

তালিকার দশম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। দুর্ঘটনায় পড়া মানুষকে সাহায্য করার মানসিকতার ক্ষেত্রে রাজ্যের উত্তরদাতারা বিশেষভাবে ভালো ফল করেছেন। ঘুষ দেওয়াকে সমর্থন না করা-সহ নাগরিক আচরণের আরও বেশ কয়েকটি প্রশ্নেও মহারাষ্ট্রের ফলাফল উল্লেখযোগ্য।

সমীক্ষার ফল বলছে, নাগরিকবোধ শুধু পরিচ্ছন্নতা বা ট্রাফিক আইন মেনে চলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিপদে অন্যকে সাহায্য করা, ঘুষের বিরোধিতা করা, পরিবেশ নিয়ে সচেতন থাকা এবং সরকারি পরিষেবা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করাও নাগরিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *