‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।’ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতিও কিছুটা এমনই। দুই দেশের ভয়ংকর অস্ত্রের ঝংকারে বলি হতে হচ্ছে অসহায় শিশুদের। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর রিপোর্টে সামনে এল এমনই ভয়াবহ তথ্য। যেখানে দাবি করা হয়েছে, গত পাঁচ মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে শুধুমাত্র ইরানে হতাহত হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি শিশু। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ মিলিয়ে শিশুদের হতাহতের সংখ্যাটা ৪ হাজারের বেশি।
ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে গত শুক্রবার এক বিবৃতি পেশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলিতে যুদ্ধের বলি হতে হচ্ছে শিশুদের। নিজের বাড়ি, স্কুল কোনও কিছুই আর নিরাপদ নয়। এইসব জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটছে। শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে বা চিরতরে পঙ্গু হচ্ছে। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা বলেন, ইরানে সর্বশেষ মার্কিন হামলা হয়েছিল ৩০ জুলাই কেশম দ্বীপের এক আবাসনে। এই হামলায় মা-বাবার সঙ্গে মৃত্যু হয় ২ বছরের এক শিশুর। আহত হয়েছে আরও দুই শিশু। এই হামলাগুলিই প্রমাণ করছে এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মূল্য চোকাতে হচ্ছে শিশুদের।
আরও পড়ুন:
গত পাঁচ মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে শুধুমাত্র ইরানে হতাহত হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি শিশু। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ মিলিয়ে শিশুদের হতাহতের সংখ্যাটা ৪ হাজারের বেশি।
তিনি বলেন, গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে ৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত কিংবা আহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইরানে হতাহত শিশুর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। দেশটিতে চলমান যুদ্ধে ৩৮৬ শিশু নিহত এবং আরও ২ হাজার ১১৭ শিশু আহত হয়েছে। ইউনিসেফের বার্তা, শিশুদের এই দুর্ভোগকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া কোনওভাবেই উচিত নয় যুদ্ধে মেতে ওঠা দেশগুলির। কারণ এই যুদ্ধ শিশুরা শুরু করেনি, তা থামানোর ক্ষমতাও শিশুদের নেই। অথচ এই সংঘাতের শিকার তারাই।
যুদ্ধে মেতে ওঠা দেশগুলির উদ্দেশে ইউনিসেফের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে তারা যেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলে। এবং যুদ্ধবিরতিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এই সংঘাত বন্ধ করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ করতে হবে সবপক্ষকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
