দীর্ঘমেয়াদি, নিরাপদ এবং কর-সাশ্রয়ী বিনিয়োগের কথা উঠলে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF) এখনও ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সঞ্চয় প্রকল্প। কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থিত এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে মূলধনের নিরাপত্তার পাশাপাশি চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা এবং কর ছাড়—দুই-ই পাওয়া যায়। তবে শুধু বিনিয়োগ করলেই হবে না, কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চললে পিপিএফ থেকে আরও বেশি রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।
নিচে এমনই ৮টি কার্যকর কৌশল তুলে ধরা হল—
– বিজ্ঞাপন –
১. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিনিয়োগ শুরু করুন
পিপিএফের সবচেয়ে বড় শক্তি হল চক্রবৃদ্ধি সুদ (Compounding)। কম বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলে অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে ২০–২৫ বছর বয়সে শুরু করা ছোট অঙ্কের বিনিয়োগও ভবিষ্যতে বড় তহবিলে পরিণত হতে পারে।
২. প্রতি মাসের ৫ তারিখের আগেই টাকা জমা দিন
পিপিএফে সুদ গণনা করা হয় প্রতি মাসের ৫ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে থাকা সর্বনিম্ন ব্যালেন্সের উপর। তাই মাসের ৫ তারিখ বা তার আগে টাকা জমা দিলে সেই মাস থেকেই পুরো জমার উপর সুদ পাওয়া যায়।
৩. আর্থিক বছরের শুরুতেই এককালীন বিনিয়োগ করুন
যদি সামর্থ্য থাকে, তাহলে নতুন অর্থবর্ষের শুরুতে, অর্থাৎ ৫ এপ্রিলের আগে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা জমা করা লাভজনক হতে পারে। এতে পুরো অর্থবর্ষ জুড়ে সম্পূর্ণ টাকার উপর সুদ পাওয়া যায়। মাসে মাসে টাকা জমা করলে প্রতিটি কিস্তির উপর জমার সময় অনুযায়ী সুদ হিসাব করা হয়।
৪. বছরে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগান
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্টে বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা জমা রাখা যায়। এই সীমা পূর্ণ করলে দীর্ঘমেয়াদে বড় তহবিল গড়ে তোলা সহজ হয়। উদাহরণ হিসেবে, প্রতি বছর ১.৫ লক্ষ টাকা করে ১৫ বছর বিনিয়োগ করলে মোট মূলধন হবে ২২.৫ লক্ষ টাকা। বর্তমান ৭.১ শতাংশ বার্ষিক সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলে পরিপক্বতার সময় আনুমানিক ৪০.৬৮ লক্ষ টাকারও বেশি পাওয়া যেতে পারে। তবে সুদের হার সময়ে সময়েই সরকার পরিবর্তন করতে পারে, ফলে প্রকৃত ম্যাচিউরিটি মূল্যও ভিন্ন হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
৫. ট্রিপল E (EEE) কর-সুবিধার পূর্ণ সুবিধা নিন
পিপিএফ Exempt-Exempt-Exempt (EEE) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ—
- বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আয়কর আইনের ধারা ৮০সি-এর আওতায় করছাড় পাওয়া যায়।
- অর্জিত সুদ সম্পূর্ণ করমুক্ত।
- ১৫ বছর শেষে ম্যাচিউরিটির অর্থও সম্পূর্ণ করমুক্ত।
এই কারণেই অনেক ক্ষেত্রে পিপিএফকে সাধারণ ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) তুলনায় বেশি কর-সাশ্রয়ী বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়।
৬. অপ্রয়োজনে আগাম টাকা তুলবেন না
পিপিএফের মেয়াদ ১৫ বছর। বিশেষ প্রয়োজনে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আংশিক অর্থ তোলা গেলেও, তা করলে দীর্ঘমেয়াদে চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন না হলে আগাম উত্তোলন এড়ানোই ভালো।
৭. ১৫ বছর পরেও অ্যাকাউন্ট চালিয়ে যেতে পারেন
ম্যাচিউরিটির পরে পুরো টাকা তুলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়েছে। চাইলে অ্যাকাউন্ট প্রতি পাঁচ বছরের ব্লকে বাড়ানো যায়। বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে করমুক্ত সুদের সুবিধাও অব্যাহত থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় তহবিল গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
৮. ঋণ ও আংশিক উত্তোলনের নিয়ম জেনে রাখুন
পিপিএফ অ্যাকাউন্টের বিপরীতে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ আর্থিক বছরের মধ্যে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সপ্তম আর্থিক বছর থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আংশিক অর্থ তোলা যায়। প্রয়োজনের সময়ে এই সুবিধাগুলি কাজে লাগানো সম্ভব হলেও, নিয়মগুলি আগে থেকে জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
যা মনে রাখা জরুরি
বর্তমানে পিপিএফের সুদের হার বার্ষিক ৭.১ শতাংশ (সরকার প্রতি ত্রৈমাসিকে এই হার পর্যালোচনা করতে পারে)। তাই ভবিষ্যতের রিটার্ন বর্তমান হারের ভিত্তিতে অনুমান করা হলেও, প্রকৃত রিটার্ন সুদের হার পরিবর্তনের উপর নির্ভর করবে। পাশাপাশি, পিপিএফে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা এবং অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ১৫ বছর।
মনে রাখবেন, এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরামর্শ দেওয়ার স্বার্থে লেখা হয়েছে। তাই যে কোনো রকম আর্থিক বিনিয়োগের আগে ভালো করে যাচাই করে নেবেন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
