খবর অনলাইন ডেস্ক: স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর অনুমতি ছাড়া লাদাখের সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুককে তাঁর মুখ বা শিরার মাধ্যমে কোনো ওষুধ বা তরল দেওয়া চলবে না। এই দাবি করেছেন স্বয়ং গীতাঞ্জলি।
শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ সোনমকে জোর করে তাঁর অনশনমঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তর অশান্ত হয়ে ওঠে। অনেকেই পুলিশকে আটকানোর চেষ্টা করে।
– বিজ্ঞাপন –
গীতাঞ্জলি কী বলেছেন
গীতাঞ্জলি জে আংমো সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে জানান, গত প্রায় ২০ দিন ধরে যাঁরা সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছিলেন, তাঁদের এবং পরিবারের অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেন কোনো ধরনের চিকিৎসা বা ওষুধ প্রয়োগ না করে।
তিনি লেখেন, “আমি দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে রয়েছি, যেখানে সোনম ওয়াংচুককে ভর্তি করা হয়েছে। আমার, পরিবারের সদস্যদের এবং গত ২০ দিন ধরে তাঁর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণকারী চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়া তাঁকে মুখ বা শিরার মাধ্যমে কিছু দেওয়া যাবে না।”
৫৯ বছর বয়সি সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্ত্রী। গীতাঞ্জলি আংমোর দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
তিনি বলেন, “গতকাল তিনি ভালোই ছিলেন। তাঁকে হাসপাতালে আনার কোনো দরকার ছিল না। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে এটা আমার অধিকার। আমার এবং আমার চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া তাঁকে কিছু দেওয়া যাবে না।”
বিজ্ঞাপন
দিল্লি পুলিশের সাফাই
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই সোনম ওয়াংচুককে ‘প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা’ দেওয়ার জন্য সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, “মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার সময় বিক্ষোভকারীরা কিছু বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণে সামান্য উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে নিরাপদে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমরা যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান খালি করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
২১ দিনে পড়ল সোনমের অনশন
শনিবার সোনমের অনশনের ২১তম দিন। উল্লেখ্য, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অবস্থান শুরু করে। ওই কর্মসূচিতে শামিল হয়ে গত ২৮ জুন থেকে সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশন শুরু করেন। শুক্রবার রাতে তিনি জানিয়েছিলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি অনশন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “যে করেই হোক আমি ২০ জুলাই পর্যন্ত বেঁচে থাকব।” ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র ডাকা আগামী ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে ব্যাপক অংশগ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
লাদাখের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও পরিবেশগত দাবিকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর অনশন এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
