খবর অনলাইন ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে অপেক্ষা করছে এক মহারণ। একদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ নিয়ে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আগামী রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই শক্তিধর দেশ।

মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। অন্যদিকে বুধবার ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে নিজেদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দেয় আর্জেন্টিনা।

– বিজ্ঞাপন –

আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। দলটি চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবে। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল পরপর দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চায় স্পেন।

এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি, মোট ১৯টি গোল করেছে। বিপরীতে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে, যা এই বিশ্বকাপের সেরা রক্ষণাত্মক রেকর্ড। ফলে ফাইনালে আক্রমণ বনাম রক্ষণের এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

মেসি বনাম ইয়ামাল: বর্তমানের সঙ্গে ভবিষ্যতের লড়াই

এবারের ফাইনালকে অনেকেই ফুটবলের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দ্বৈরথ হিসেবে দেখছেন। একদিকে কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যে ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কাতারের দোহায় মার্চ মাসের শেষ দিকে সেই ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যায়। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ম্যাচটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ফলে দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামের বদলে বিশ্বকাপের মঞ্চেই মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। নিউ ইয়র্কের কাছেই এবার ফুটবলের সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে নামবে মেসি ও ইয়ামালরা।

দুই তারকার মধ্যে রয়েছে এক আবেগঘন যোগসূত্রও। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এক শিশুকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন মেসি। সেই শিশুই আজকের লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই তরুণ ফুটবলারও মেসির মতোই বাঁ পায়ে খেলেন। প্রায় দুই দশক পরে সেই ছবির দুই চরিত্র এবার বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে আবার একসঙ্গে।

ফাইনালে ওঠার পথে স্পেন

স্পেন এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ জিতেছে এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছে। দলটি এখনও অপরাজিত।

গোল করেছে: ১৩টি

গোল হজম করেছে: ১টি

গ্রুপ পর্ব:
• কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র
• সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারায়
• উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারায়

নকআউট পর্ব:
• অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারায়
• পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারায়
• বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারায়
• ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারায়

ফাইনালে ওঠার পথে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে।

গোল করেছে: ১৯টি

গোল হজম করেছে: ৭টি

গ্রুপ পর্ব:
• আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারায়
• অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারায়
• জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায়

নকআউট পর্ব:
• কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারায়
• মিশরকে ৩-২ গোলে হারায়
• সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারায়
• ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায়

দুই দলের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে।

স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত। এই সময়ে তারা ২৮টি ম্যাচ জিতেছে এবং নয়টি ম্যাচ ড্র করেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল স্পেন।

অন্যদিকে, ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের কাছে হারের পর থেকে বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে আর্জেন্টিনা। এই সময়ে তারা ১১টি ম্যাচ জিতেছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র করেছে।

কারা এগিয়ে?

বুকমেকারদের প্রাথমিক হিসেবে স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হয়েছে। স্পেনের জয়ের সম্ভাবনার অনুপাত ধরা হয়েছে প্লাস ১২০, যেখানে আর্জেন্টিনার জন্য তা প্লাস ২৭৫। অর্থাৎ আপনি যদি স্পেনের জন্য ১০০ টাকা বাজি ধরেন, তা হলে আপনার লাভ হবে ১২০ টাকা। তার মানে আপনি মোট পাবেন ২২০ টাকা। আর যদি আর্জেন্টিনার জন্য ১০০ টাকা বাজি ধরেন, তা হলে আপনার লাভ হবে ২৭৫ টাকা। তার মানে আপনি মোট পাবেন ৩৭৫ টাকা।

৪৮টি দল এবং ১০৪টি ম্যাচ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায় লেখা হবে রবিবার। সেখানে নির্ধারিত হবে—সেরা আক্রমণ জিতবে, নাকি সেরা রক্ষণ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *