আর্জেন্টিনা: ২ (এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেস) ইংল্যান্ড: ১ (অ্যান্থনি গর্ডন)
খবর অনলাইন ডেস্ক: আটলান্টার নাটকীয় সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেসের জোড়া গোলে থমাস টুখেলের দলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
– বিজ্ঞাপন –
১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার পুরুষদের বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
এ বার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। রবিবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১২টায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ জয়ের আশা শেষ হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ইংল্যান্ড।
তীব্র উত্তেজনায় প্রথমার্ধে ১৯টি ফাউল
আটলান্টা স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে তীব্র উত্তেজনার আবহের প্রতিফলন দেখা যায় ম্যাচের শুরু থেকেই। প্রথমার্ধ ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং উত্তপ্ত। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে মোট ১৯টি ফাউল হয়। মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাথ পুরো ম্যাচে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেশ বেগ পান।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করেন এনজো ফার্নান্দেজ। দূরপাল্লার একটি শক্তিশালী শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে গোলের প্রথম সুযোগ কাজে লাগায় ইংল্যান্ড।
বিজ্ঞাপন
৫৫ মিনিটে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে নিজের নির্বাচনের যথার্থতা প্রমাণ করেন মরগান রজার্স। ডান প্রান্ত থেকে তাঁর নিখুঁত ক্রস বক্সের মধ্যে পৌঁছে যায় অ্যান্থনি গর্ডনের কাছে। তিনি ফাঁকায় দাঁড়িয়ে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজম করার পরই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। নিকো গনসালেসের হেড থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় তিনি বল ঠেকিয়ে দেন।
পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে সমতা ফেরাল আর্জেন্টিনা
এর পর ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু শেষপর্যন্ত আর্জেন্টিনার অবিরাম আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি থমাস টুখেলের দল।
ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। জর্ডান পিকফোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সেই শট আটকাতে পারেননি।
এই ম্যাচে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল চারজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিলেন, যাতে প্রতিপক্ষকে বক্সের ভেতরে জায়গা না দেওয়া যায়। কিন্তু আর্জেন্টিনার লাগাতার চাপের সামনে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
জয়সূচক গোল অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে
সমতা ফেরানোর পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের আরেকটি প্রচেষ্টা কাঠে লেগে ফিরে আসে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ইংল্যান্ডের।
নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেস। সেই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার ফাইনালের টিকিট।
একসময় যে ইংল্যান্ড ফাইনালের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, শেষ মুহূর্তের সেই ধাক্কা তাদের আবারও হতাশার অন্ধকারে ঠেলে দিল। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এখন ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
