লকাতা: বারুইপুরে ১১ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় এসেছে সুপ্রিম কোর্টের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর (এনকাউন্টার) সংক্রান্ত নির্দেশিকা। ২০১৪ সালে People’s Union for Civil Liberties (PUCL) বনাম মহারাষ্ট্র সরকার মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ১৬ দফা বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করেছিল। সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদের অধীনে এই নির্দেশিকাগুলিকে বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য ছিল, কোনও পুলিশি অভিযানে কারও মৃত্যু হলে শুধুমাত্র পুলিশের বয়ানের উপর নির্ভর করা যাবে না। প্রত্যেকটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করতে হবে।

– বিজ্ঞাপন –

সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা

নির্দেশিকা অনুযায়ী—

  • অভিযানের আগে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য বা সূত্র লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।
  • এনকাউন্টারে মৃত্যু হলে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং তা সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠাতে হবে।
  • তদন্ত করবে সিআইডি বা অন্য থানার পুলিশ দল। ঘটনায় জড়িত পুলিশকর্মীরা নিজেরা তদন্ত করতে পারবেন না।
  • ঘটনাস্থল সংরক্ষণ, ফরেন্সিক প্রমাণ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ব্যালিস্টিক ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা এবং ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ বাধ্যতামূলক।
  • প্রতিটি পুলিশি মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত করতে হবে।
  • জাতীয় বা রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকে দ্রুত বিষয়টি জানাতে হবে।
  • আহত ব্যক্তি বেঁচে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা ও তাঁর জবানবন্দির ব্যবস্থা করতে হবে।
  • তদন্ত শেষ হলে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
  • মৃতের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত খবর দিতে হবে।
  • প্রতি ছয় মাস অন্তর সমস্ত পুলিশি মৃত্যুর রিপোর্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে পাঠাতে হবে।
  • তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রয়োজন হলে সাসপেনশনের নির্দেশ রয়েছে।
  • মৃতের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।
  • ঘটনায় জড়িত পুলিশকর্মীদের সার্ভিস অস্ত্র ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য জমা দিতে হবে।
  • সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের পরিবারকেও ঘটনার বিষয়ে জানাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনি বা মানসিক সহায়তা দিতে হবে।
  • তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও পুলিশকর্মীকে পদোন্নতি, বীরত্ব পুরস্কার বা নগদ পুরস্কার দেওয়া যাবে না।
  • মৃতের পরিবার তদন্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে সেশনস কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রাখে।

বারুইপুর ঘটনার তদন্ত শুরু

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশনের সমস্ত নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।

এদিকে, ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি সিআইডিকেও তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশের দাবি, ফরেন্সিক তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই ঠিক হবে এনকাউন্টারটি আইনসম্মত ছিল কি না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *