দেবরাজ চক্রবর্তী-অদিতি মুন্সি (ফাইল ছবি)Image Credit: TV9 Bangla

কলকাতা: রক্ষাকবচ খারিজের এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেফতার বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমানা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তোলাবাজি-হিংসা মামলায় বেঙ্গল এসটিএফের জালে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতা।

দেবরাজ চক্রবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার যুব সভাপতি ছাড়াও রাজারহাট, নিউটাউন, বাগুইআটি এলাকায় কার্যত একটা চক্রবর্তী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, দেবরাজের আয় বহির্ভূত প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। তার জন্য এলাকার মানুষ দেবরাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ছিলেন। পূর্ণেন্দু বসুর আপ্ত সহায়ক হিসাবেই দেবরাজের উত্থান। তারপর সেখান থেকে সুজিত বসুর হাত ধরেন। তখন থেকেই ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব বিস্তার শুরু করেন দেবরাজ। এরপর শুরু হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা।

এলাকার প্রোমোটারদের হুমকি দেওয়া, তোলাবাজি, টাকা তোলার একাধিক অভিযোগ উঠতে থাকে। সব থেকে বড় উদাহরণ, রাজ্যে SIR এর সময়ে দেবরাজের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মীদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। যাতে মৃতদের নাম তালিকায় তোলা হয়।

দেবরাজের অদিতি মুন্সি এলাকার বিধায়ক ছিলেন, তবে অভিযোগ, তাঁর হয়ে এলাকা কন্ট্রোল করতেন দেবরাজই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই সেবাশ্রয়ের আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন দেবরাজও। সেই মামলাতেও দেবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্তকারীরা।  রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেকের মদতে দেবরাজ উত্তর ২৪ পরগনাতে একাধিক দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছিলেন। দেবরাজের বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা সংঘঠিত অপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে। সে ব্যাপারে দেবরাজের স্ত্রী প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি কতটা জানতেন, সেটাই জানতে তৎপর তদন্তকারীরা। সেক্ষেত্রে তাঁদেরও মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

নির্বাচনের আগেই অদিতি মুন্সি কীভাবে মনোনয়নপত্রে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন, তা নিয়ে থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। দেবরাজের গ্রেফতারির পর এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,  “সম্পত্তির কিছুটা অংশ তো তাঁর নামেও ছিল। বউ ও জানত, স্বামী শুধু চোর নয়, ডাকাত। খুনের কথাটাও ওর বউ জানতেন। তিনি নিজেও তো এক বাচ্চার মা, জানেন না সন্তান মারা গেলে কী কষ্ট হয়? তারপরেও দেবরাজের সঙ্গেই থেকে গিয়েছেন। নির্বাচনের আগে বলেছিলেন না, ‘আমার স্বামী যদি চুরি করে, তাঁর নামে যদি অভিযোগ হয়, হিন্দু ধর্ম মতে বিয়ে হয়েছে, আমিও যাব জেলে।’ তাহলে যান। এখন আদালতে জামিন চাইতে গিয়েছিলেন কেন? বলুন, ‘আমার স্বামী গ্রেফতার হয়েছে, আমিও হব।’ উল্লেখ্য, আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দেবরাজ-অদিতি। চার মাসের সন্তানের কথা ভেবে অদিতিকে আদালত রক্ষাকবচ দিলেও দেবরাজকে দেয়নি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *