
Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
এই খবরে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে ২০২৩ সালে সরকারের সেবা খাতে ঘুষসহ দুর্নীতির যে পরিস্থিতি ছিল, তা ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও বেড়েছিল।
দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল বৃহস্পতিবার ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি ১৮টি খাত ও সেবার ওপর জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
টিআইবি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে দেশের সেবাগ্রহীতাদের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশই কোনো না কোনো খাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। সংস্থাটির ২০২৩ সালের জরিপে এ হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। সেবা খাতের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত পাসপোর্ট ।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালে ঘুষের শিকার হয়েছিলেন ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ সেবাগ্রহীতা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশে।


টাইমস অব বাংলাদেশের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— BNP, Jamaat battle over ‘institutional purge’; অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়া নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের লড়াই।
এই খবরে বলা হয়েছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, প্রশাসনে বড় রদবদল এবং এলাকার উন্নয়ন তহবিল নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগে বিএনপি সরকার ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্কে চিড় ধরেছে।
দুই দলের নেতারা জানাচ্ছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দলের মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার যে আশা দেখা দিয়েছিল, তা এখন দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে। এর ফলে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে তৈরি হচ্ছে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের দূরত্ব।
জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধের শুরু হলেও মূলত পর্দার আড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নিয়ে আসল লড়াই চলছে।
জামায়াত মনে করছে, তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে একপাশে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড থেকে জামায়াতপন্থীদের সরিয়ে দেওয়া এবং প্রশাসন ও শিক্ষা খাত থেকে জামায়াত-সমর্থিত কর্মকর্তাদের দলে দলে নিয়োগ বাতিল করা তারই প্রমাণ।
জামায়াতের কয়েকজন সংসদ সদস্যও অভিযোগ করেন, এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাদের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে।
দলটির নেতাদের দাবি, ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপি এমন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যাতে জামায়াতের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই দীর্ঘদিনের পুরোনো বন্ধুত্বে ফাটল ধরছে।
অন্যদিকে, বিএনপির বক্তব্য হলো সরকার চলবে তার নিজস্ব নীতিতে, তাই বিরোধী দলের সব আবদার পূরণ করা সম্ভব নয়। তারা জামায়াতের দাবিগুলোকে একটু বেশি বলেই মনে করছে।

এই সংবাদে বলা বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর দুই দেশ ১৩টি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে।
এতে বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং নতুন খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বা জিডিআইতে যুক্ত হয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের দিকটিও এবার স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
এছাড়া, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এটিকে রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— China pledges full support for Teesta management; অর্থাৎ তিস্তা প্রকল্পে পূর্ণ সহায়তায় চীনের প্রতিশ্রুতি।
এই সংবাদে বলা বলা হয়েছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তত ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পাশাপাশি তিস্তা ও অন্যান্য নদীর ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইংয়ের বৈঠকে এই আশ্বাস পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকারের চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে, ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে আছে। এ অবস্থায় তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ চীনের সহায়তা চায় এবং দেশটির বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ সম্পন্ন করেছেন।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— China firm now to develop economic zone on delisted Mongla site for India; অর্থাৎ মোংলায় বাতিল হওয়া ভারতের জন্য নির্ধারিত স্থানে এখন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে চীনা প্রতিষ্ঠান।
এই খবরে বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের আওতায় ২০১৫ সালে বাগেরহাটের মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারতের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি হয়েছিল।
তবে, ভারত সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের অক্টোবরে তা বাতিল করে।
ওই স্থানে এখন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে চীনা প্রতিষ্ঠান। মোংলা বন্দর সংলগ্ন ১১০ একর জমিতে ‘চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও ‘চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনের এ প্রতিষ্ঠানটি দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান।
দেশে অধিক পরিমাণে চীনা বিনিয়োগ আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ঢাকার বিনিয়োগ কৌশলে এটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

এই খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করতে চায় সরকার। প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত ২৩২ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে প্রায় ৭১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।
সে হিসেবে প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়বে প্রায় ৩০৯ কোটি টাকা।
২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান চার লেনের সড়ককে উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে।
নিরবচ্ছিন্ন যানচলাচল নিশ্চিত করতে মহাসড়কজুড়ে ইন্টারচেঞ্জ, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাসসহ বিভিন্ন গ্রেড-সেপারেটেড অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের অর্থায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এই সংবাদে বলা বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষ্যে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আগামী এক জুলাই থেকে পাঁচ অগাস্ট পর্যন্ত তাদের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী সেমিনার, চিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ, মানববন্ধন, বিভাগীয় সমাবেশ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ফের পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে মেডিকেল ভিসা আগের মতো অব্যাহত থাকবে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে এ ঘোষণা দেন।
এর আগে, সকালে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা এই পাঁচটি কেন্দ্র থেকে ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য শহরেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যায় ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম।
এ সময় বিভিন্ন শহরে অবস্থিত অন্তত পাঁচটি ভিসা সেন্টার হামলার শিকার হয়। এরপরই নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা কার্যক্রম সীমিত করে ভারতীয় হাইকমিশন।

এতে বলা হয়েছে, গত মাসের তুলনায় চলতি জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়েছে। যে হারে ভর্তি বাড়ছে তাতে সামনে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে ৫ হাজার ৫১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।
২০২৫ সালের এই সময়ে ভর্তি হয়েছিল ৮ হাজার ৮৭০ জন। মৃত্যু হয়েছিল ৩৬ জনের। সেই তুলনায় এবার এখনো ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কম।
এবার জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৪১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ এবং জুনের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩১৮ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার আগাম প্রস্তুতি ভালো। সচেতনতা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাওয়ায় এখনো আক্রান্ত কম। তবে মাসিক বৃদ্ধির হার এবার বেশি। এভাবে বাড়তে থাকলে একটা সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
সেজন্য যেসব জায়গায় রোগী বেশি, সেসব এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকোপ ঠেকানোর পরামর্শ তাদের।
