২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর ও মূল্য নির্ধারণ কাঠামো আরও কার্যকরভাবে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তামাকবিরোধী নারী সংসদ সদস্য ফোরামের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে অনুষ্ঠিত ‘বাজেট-পরবর্তী আলোচনা’ সভায় এ দাবি জানান তারা।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে তামাক ব্যবহার কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও করহার আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে কার্যকর কর বৃদ্ধি তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, বাজারে বিদ্যমান চার স্তরের সিগারেট কমিয়ে তিন স্তরে আনার মাধ্যমে মূল্য কাঠামো সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের মূল্য কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তারা সহজেই নিম্নস্তরের সিগারেট বেছে নিতে পারেন—এ কারণে এই দুই স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার দাম ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সব স্তরের সিগারেটে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে অতিরিক্ত ৪ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাবও ছিল। তবে বাজেটে সিগারেটের মূল্য সামান্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে। বাজারে প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেট এই নিম্নস্তরের হওয়ায় মূল্য বৃদ্ধিকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, বাস্তবে দোকানে একক শলাকা সিগারেট ৭ টাকায় বিক্রি হওয়ায় কর কাঠামোর কারণে কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফা করছে, যা রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। সভায় দাবি করা হয়, প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে।

এছাড়া নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের ওপর কর আরোপকে এসব পণ্যের বৈধতা দেওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। তাদের মতে, এতে নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং তরুণদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তারা আরও জানান, বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে, পাশাপাশি নতুন ধূমপায়ী হওয়া কমবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সহ-সভাপতি রাশেদা বেগম হীরা। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমীন, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, ফেরদৌসী আহমেদ, জহরত আদিব চৌধুরী, শওকত আরা আক্তার, রেজেকা সুলতানা, নাদিয়া পাঠান পাপন, মমতাজ আলো, সেলিনা সুলতানা ও সুরাইয়া জারিনসহ অন্যান্যরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *