নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালে রেকর্ড ৬৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির পর ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সোনার বাজার অনেকটাই নিষ্প্রভ। বছরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় কোনও উত্থান-পতন দেখা যায়নি। ফলে অনেক বিনিয়োগকারীই আপাতত সোনা থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গান এখনও সোনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
ব্যাঙ্কটির পূর্বাভাস, চলতি বছরের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৬,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২০২৭ সালের শেষে সেই দাম বেড়ে ৬,৩০০ ডলার হতে পারে বলেও মনে করছে তারা।
– বিজ্ঞাপন –
এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় বাজারেও সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। বর্তমানে ডলার-পিছু ৯৫ টাকা বিনিময় হার ধরে এবং আমদানি শুল্ক ও জিএসটি যোগ করে দেশে সোনার ফিউচার্সের দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৫২ লক্ষ টাকা।
জেপি মর্গানের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৬,০০০ ডলারে পৌঁছলে ভারতে আমদানি শুল্ক ও কর মিলিয়ে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ২.০২ লক্ষ টাকা হতে পারে। ২০২৭ সালে ৬,৩০০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে সেই দাম ২.১২ লক্ষ টাকারও বেশি ছুঁতে পারে।
কেন পিছিয়ে রয়েছে সোনা?
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে সোনার দামের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে তেলের দাম বেড়েছিল। তার জেরে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ে এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সুদের হার বেশি থাকলে সাধারণত সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। ফলে সোনার দামও চাপের মুখে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
কেন আশাবাদী জেপি মর্গান?
ব্যাঙ্কটির মতে, স্বল্পমেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে তেলের দাম ও ডলারের শক্তি কিছুটা কমতে পারে, যা সোনার জন্য অনুকূল।
দীর্ঘমেয়াদে আরও কয়েকটি কারণ সোনার পক্ষে কাজ করবে বলে মনে করছে জেপি মর্গান। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন আর্থিক ঘাটতি বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সোনা কেনার প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা।
সতর্ক থাকার পরামর্শও
তবে সব বিশেষজ্ঞ এতটা আশাবাদী নন। অনেকের মতে, বড় বিনিয়োগের আগে সোনার বাজারে স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অপেক্ষা করা উচিত। জেপি মর্গানও মনে করছে, বছরের প্রথমার্ধে অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রকৃত উত্থান দেখা যেতে পারে দ্বিতীয়ার্ধে।
তবে ব্যাঙ্কটির পূর্বাভাস সত্যি হলে বর্তমান দামে সোনা কেনা বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক সিদ্ধান্ত প্রমাণিত হতে পারে।
