অজন্তা চৌধুরী
নব রবি কিরণ এবং নব নালন্দা সঙ্গীত শিক্ষায়তনের আয়োজনে ৬ জুন, অহীন্দ্র মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সারা বাংলা রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা ‘গানের ভিতর দিয়ে’র চূড়ান্ত পর্ব। রবীন্দ্রনাথের গানকে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই প্রয়াস। সারা বাংলা থেকে প্রতিযোগীরা যোগ দেন। কোলাঘাট, রায়গঞ্জ, বারুইপুর, কলকাতা, মালদা, বর্ধমান, দুর্গাপুর-সহ পশ্চিমবঙ্গের নানা অঞ্চল জেলা থেকে প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
– বিজ্ঞাপন –
এই প্রতিযোগিতায় মোট তিনটি বিভাগ ছিল – উন্মেষ (১০ থেকে ১৪ বছর), বিকাশ (১৫ থেকে ১৮ বছর) এবং ঐশ্বর্য (১৯ বছর ও তার ঊর্ধ্বে)। বিচারকের আসনে ছিলেন অপালা বসু সেন, চন্দ্রাবলী রুদ্র দত্ত, বিপ্লব মণ্ডল, অলক রায়চৌধুরী, প্রবুদ্ধ রাহা, অদিতি গুপ্ত। প্রতিযোগীদের নির্বাচনে ছিল ‘প্রতিদিন আমি হে জীবনস্বামী’, ‘পাখি আমার নীড়ের পাখি’, ‘আমি যখন ছিলেম অন্ধ’, ‘দাঁড়াও আমার আঁখির আগে’, ‘কোথা হতে বাজে প্রেমবেদনা রে’, ‘বেলা গেল তোমার পথ চেয়ে’, ‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম’, ‘প্রথম আদি তব শক্তি’ প্রভৃতি রবীন্দ্রসংগীত। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন সব্রত বাবু মুখোপাধ্যায় (কি বোর্ড), নন্দন দাশগুপ্ত (এসরাজ), সুভাষ পাল (তবলা) এবং গৌতম চৌধুরী, (তালবাদ্য)।
প্রতিযোগীরা ছাড়াও এ দিন সংগীত পরিবেশনে ছিলেন প্রিয়াঙ্গী লাহিড়ী, দীপাবলী দত্ত, দেবাদৃত চট্টোপাধ্যায়, ঝিনুক বসু এবং কোয়েল অধিকারী।

‘ঐশ্বর্য’ বিভাগের বিজয়ীরা এবং ‘সুরের সাথী’ পুরস্কারে সম্মানিতরা।
প্রতিযোগিতায় ‘উন্মেষ’ বিভাগে প্রথম হন অপূর্ব সুন্দর মণ্ডল, দ্বিতীয় আপ্তদূতী দাশগুপ্ত এবং তৃতীয় হন মহাশ্রী মুন্সী। ‘বিকাশ’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন সাগ্নিকা দেবনাথ, দ্বিতীয় শ্রিয়াঙ্কা মিশ্র এবং তৃতীয় ঐশী ধাড়া। ‘ঐশ্বর্য’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন মৌমিতা মুন্সী, দ্বিতীয় দ্বৈপায়ন বকসী এবং তৃতীয় হন পৌলবী কোলে। প্রতি বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের ১২, ৮ ও ৫ হাজার টাকা পুরস্কার মূল্য প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও ফাইনালে অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীর হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক।
বিজ্ঞাপন
নব নালন্দার প্রাণপ্রতিষ্ঠাত্রী ভারতী মিত্র নামাঙ্কিত ভারতী মিত্র স্মৃতি পুরস্কার ‘সুরের সাথী’ প্রদান করা হয় সোহাঙ্কী খাটুয়া, শ্রীপর্নিকা মিশ্র এবং শ্রীরঞ্জনী মজুমদারকে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য থাকছে নব রবি কিরণের ইউটিউব চ্যানেলে একটি করে মিউজিক ভিডিও করার চুক্তি। এ ছাড়াও চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী নির্বাচিত প্রতিযোগীদের সংস্থার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ভোকাল ট্রেনিং দেওয়া হবে।
‘গানের ভিতর দিয়ে’ রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতার রূপকার তথা প্রাণপুরুষ অরিজিৎ মিত্র জানালেন, “তিনটে বিভাগ নিয়ে অনুষ্ঠিত হল চতুর্থ বর্ষে, সারা বাংলা রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা ‘গানের ভিতর দিয়ে’। বিচারকের আসনে ছিলেন প্রথিতযশা সংগীতশিল্পীরা। এটি প্রকৃতই একটি কম্পিটিশন, রিয়ালিটি শো নয়। দর্শকদের সামনে, সকলের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এবারও তাই হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি সার্থক করার পেছনে নব নালন্দা ও নব রবি কিরণের প্রতিটি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে। সেজন্যই আমরা চার বছর ধরে সফলভাবে অনুষ্ঠিত করে আসছি এই প্রতিযোগিতা। আজ অনেক মানুষ, অনেক বিদগ্ধ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগীরা সকলেই এতো ভালো গান গেয়েছেন যে বিচারকদের পক্ষেও কঠিন হয়ে উঠেছিল প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্বাচন করা। আশা রাখি সকলের উপস্থিতিতে আমরা পরবর্তী কালেও এভাবেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব প্রতিযোগিতাটি।” অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন তমালী ঘোষ ও শ্রবণা শীল।
