কুণাল ঘোষ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কী নিয়ে বাদানুবাদ?Image Credit: TV9 Bangla

কলকাতা: ভাঙন বাড়ছে তৃণমূলে। এরই মধ্যে শনিবার ঘাসফুল শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে তীব্র বাদানুবাদ। সূত্রের খবর, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই তর্কে জড়ান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে কেন্দ্র করেই তাঁদের বিবাদ বাধে। বৈঠকের ঘরের বাইরে থেকেও বাদানুবাদের তীব্র আওয়াজ শোনা যায়।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডেকেছিলেন। সূত্রের খবর, বৈঠক চলাকালীন কুণালের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “সুমিত রায়কে নিয়ে তুমি বিরূপ মন্তব্য কেন করেছ?” জবাবে কুণাল বলেন, “সুমিত আমাদের পার্টির কেউ নন, তাঁকে ডিফেন্ড করতে যাব কেন?” অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, “আমার সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেছ।” সূত্রের খবর, এই নিয়ে দুই নেতার তীব্র বাদানুবাদ হয়। চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ মিটিং রুমের বাইরে থেকেও শোনা যায়। দলের দুই নেতাকে শান্ত করতে বৈঠকের মাঝেই হস্তক্ষেপ করতে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

এদিন ভোরেই সুমিত রায়ের খোঁজে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। তারপরই সুমিত রায়কে নিশানা করেছিলেন কুণাল। তিনি বলেন, “নেতাদের সুমিত রায়কেও খুশি করতে হত। সুমিত রায়ের ফ্যান ক্লাব হয়ে গেল। সুমিত রায়কে খুশি না রাখলে অভিষেকের টাইম পাওয়া যাবে না। একটা আলাদা বৃত্ত তৈরি করে প্যারালাল দাদাগিরি চালিয়েছে।” তবে সুমিত রায়ের খোঁজে এদিন যেভাবে পুলিশ অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, তার নিন্দা করেছিলেন কুণাল। বলেছিলেন, “ওকে খুঁজতে অভিষেকের বাড়িতে রাত ৩ টায় তালা ভেঙে ঢোকে তল্লাশি, এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।”

বৈঠক শেষে অভিষেক-কুণালের বাদানুবাদ নিয়ে তৃণমূলের কেউ মুখ খোলেননি। তবে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুণালকে দলের উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করেছেন। কুণালও বারবার জানিয়েছেন, দলের এই দুঃসময়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন। বিক্ষুব্ধ বিধায়ক, সাংসদদেরও প্রতিনিয়ত নিশানা করে চলেছেন তিনি। কুণাল একাধিকবার বলেছেন, দল ভুল করলে তিনি সমালোচনা করবেন, তিনি মমতার হাত ছেড়ে যাবেন না। সুমিতকে নিশানা সেই সমালোচনারই অঙ্গ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *