পাখির চোখ কলকাতা লিগ। ঘরোয়া মঞ্চে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করে দিল মোহনবাগান। কোচ বাস্তব রায়ের তত্ত্বাবধানে শক্তিশালী বঙ্গব্রিগেড নেমেছে অনুশীলনে। যেখানে দলগত বোঝাপড়া মজবুত করাই প্রধান লক্ষ্য। নতুন মরশুমে সাফল্যের লক্ষ্যে শুরু থেকেই ছন্দে থাকতে মরিয়া এই মরশুমে প্রথম দল হিসাবে অনুশীলন শুরু করা সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে দলের লক্ষ্যের কথা জানালেন বাগান কোচ বাস্তব রায়। সঙ্গে কলকাতা লিগের লটারি পদ্ধতি নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মোহনবাগান মাঠে শুরু হয় দলের অনুশীলন। একে একে যোগ দেন রাজ বাসফোর, দীপেন্দু বিশ্বাস এবং তন্ময় ঘোষ। মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে অনুশীলনে হাজির হন সাহিল ইনামদারও। তবে এদিন অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন না সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুপস্থিত ছিলেন কিয়ান নাসিরি, অভিষেক সূর্যবংশী এবং সুহেল ভাটও। জানা যাচ্ছে, সায়ন, কিয়ান ও অভিষেক সম্ভবত ১৫ তারিখ থেকে অনুশীলনে যোগ দেবেন। অন্যদিকে, সুহেল ভাটের যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ১৮।

একে একে অনুশীলনে যোগ দেন রাজ বাসফোর, দীপেন্দু বিশ্বাস এবং তন্ময় ঘোষ। মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে অনুশীলনে হাজির হন সাহিল ইনামদারও। তবে এদিন অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন না সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুপস্থিত ছিলেন কিয়ান নাসিরি, অভিষেক সূর্যবংশী এবং সুহেল ভাটও।

নতুন মরশুমের আগে প্রথম দিনের অনুশীলনেই স্পষ্ট হয়ে গেল মোহনবাগান রিজার্ভ দলের লক্ষ্য, প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নয়। লিগ শুরুর আগেই নিজেদের তৈরি করতে মরিয়া গোটা দল। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে দলের কোচ বাস্তব রায় বলেন, “লিগ খেলতে গেলে সিরিয়াসলি খেলতে হবে। তাই অনুশীলন আগে থেকেই শুরু করেছি। এতে হাতে অনেকটা সময় পাওয়া যাবে। আমাদের লক্ষ্য প্রি-সিজনে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া।” আইএসএল খেলে আসা ফুটবলারদের নিয়ে তিনি জানান, “যারা আইএসএল খেলেছে, তাদের অন্তত দু’সপ্তাহ সময় দিতেই হবে। ২১ মে লিগ শেষ হয়েছে। তাই ওরা ধাপে ধাপে দলে যোগ দেবে। তবে ওদের কাছে ইতিমধ্যেই ওয়ার্কআউট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তৈরি হয়েই আসবে।”

আইএসএল খেলা ফুটবলারদের কলকাতা লিগে নামানো হলে তাঁদের মোটিভেশনে প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা নিয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিষয়টি ইতিবাচক প্রভাবই ফেলবে ফুটবলারদের উপর। বাস্তব রায় বলেন, “ওরা আইএসএলে নিয়মিত খেলেনি। কলকাতা লিগে খেললে আবার নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে এবং সেখান থেকে আইএসএলে ফিরে যেতে পারবে। এটা ওদের জন্য ইতিবাচক। কাউকে ডিমোটিভেট করার জন্য এখানে আনা হয়নি।” লিগের ফরম্যাট নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রস্তুতিতেই জোর দিচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, “কোন ফরম্যাটে লিগ হবে সেটা এখনই জানি না। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া। ফরম্যাট হাতে এলে তারপর পরবর্তী পরিকল্পনা করা হবে।”

আইএসএল খেলা ফুটবলারদের কলকাতা লিগে নামানো হলে তাঁদের মোটিভেশনে প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা নিয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিষয়টি ইতিবাচক প্রভাবই ফেলবে ফুটবলারদের উপর।

একইসঙ্গে গত মরশুমের লিগ ড্র বা ‘লটারি’ প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হয়েছেন বাস্তব রায়। তিনি বলেন, “গতবার লটারির নামে যা হয়েছিল, সেটা আদৌ লটারি নয়। আইএফএ-র কাছে অনুরোধ, লটারিটা যেন সত্যিকারের লটারির মতো হয়। গোটা বিশ্বে যেভাবে স্বচ্ছভাবে লটারি করা হয়, সেভাবেই হওয়া উচিত। একটা ট্রে থেকে নাম তুলে ঘোষণা করা, ওটা কোনও সঠিক পদ্ধতি নয়।”

দীর্ঘদিন কলকাতা লিগের শিরোপা না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান মোহনবাগানের ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস। প্রথম দিনের অনুশীলনের পর তিনি বলেন, “আমরা অনেক দিন কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হইনি। আশা রাখছি, এবার চ্যাম্পিয়ন হব। এটাই আমাদের স্বপ্ন। সিনিয়র-জুনিয়র বলে কিছু নয়, যেখানেই সুযোগ পাব, সেখানেই খেলতে হবে এবং নিজেকে আরও উন্নতি করতে হবে।” আইএসএলে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট জবাব, “অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে কলকাতা লিগে ভালো খেলে আবার আইএসএলে জায়গা করে নেওয়া। আমরা পরপর আইএসএল শিল্ড ও আইএফএ শিল্ড জিতেছি। এবার লক্ষ্য কলকাতা লিগ জেতা। পাশাপাশি জুনিয়রদের মোটিভেট করাও আমাদের দায়িত্ব।”

দীর্ঘদিন কলকাতা লিগের শিরোপা না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান মোহনবাগানের ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস।

কলকাতা লিগ যেভাবে হয়ে এসেছে, সেখানে কখন ১৭ দিন ম্যাচ থাকে না। কখনও ৩ দিনের ব্যবধানে খেলতে হয়। তবে অনিয়মিত সূচি নিয়েও কোনও অভিযোগ নেই দীপেন্দুর। তাঁর কথায়, “এতে অসুবিধার কিছু নেই। শিডিউল যেভাবে আসবে, সেভাবেই খেলতে হবে। সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।” এবার ঘরের মাঠে লিগের ম্যাচ খেলবে মোহনবাগান, যা দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। দীপেন্দু বলেন, “ঘরের মাঠে সমর্থকরা আসবেন, আমাদের সমর্থন করবেন। এটা আমাদের জন্য বাড়তি এনার্জি। মোহনবাগান প্রতি মরশুমেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামে, এই মরশুমও তার ব্যতিক্রম নয়। কোচ বাস্তব রায় থাকাটাও আমাদের জন্য বড় প্রেরণা।” সব মিলিয়ে, নতুন মরশুমে আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান শিবির। লক্ষ্য একটাই, কলকাতা লিগের ট্রফি ফিরিয়ে আনা। আর সেই লক্ষ্যেই ঘরোয়া লিগের জন্য রেজিস্টার্ড করা হয়েছে আশিস রাইকে।

কলকাতা লিগের জন্য রেজিস্টার্ড করা মোহনবাগানের খেলোয়াড়ের তালিকা:

সৈয়দ জাহিদ হুসাইন বুখারি, প্রিয়াংশ দুবে, দীপপ্রভাত ঘোষ, নন্দন রায়, রাজ বাসফোর, সাহাজিদ গাজি, রোশন সিং, সুবল টুডু, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, কিয়ান নাসিরি, দীপেন্দু বিশ্বাস, সাহিল ইনামদার, সুহেল আহমেদ ভাট, উমর মুথার কেপি, আদিত্য মণ্ডল, সন্দীপ মালিক, অভিষেক সূর্যবংশী, মিংমা শেরপা, আদিত্য অধিকারী, পল্লুজাম রোহন সিং, গোগোছা চুংখাম, বিভান জ্যোতি লস্কা, থামসল টংসিন, রোহিত সিং ইয়েন্দ্রেমবাম, করণ রাই, রাজদীপ পাল, তন্ময় ঘোষ, আশিস রাই, মহম্মদ সরফরাজ।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *