গল্ফগ্রিনে ‘হাউস পার্টি’র জন‌্য ঘরভাড়া দিত দিলশাদ। সেই ঘরে বান্ধবী নিয়ে এসে ইচ্ছামতো সময় কাটাত বহু তরুণ! একই সঙ্গে চলত বিভিন্ন ধরনের নেশা। একসঙ্গে মাদক ও মদের নেশায় বিভোর হতে থাকত তরুণ-তরুণীরা। গল্ফগ্রিনে একসঙ্গে যুগলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল‌্যকর তথ‌্য। ময়নাতদন্তের পর পুলিশকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মাদক নিয়ে নেশা করার ফলেই ঘটেছে এই মৃত্যুর ঘটনা।

রবিবার গল্ফগ্রিনের ফ্ল‌্যাট থেকে উদ্ধার হয় তিলজলার যুবক মহম্মদ দিলশাদ ও তাঁর বান্ধবী মেহুলি সান‌্যালের দেহ। রামগড়ের বাসিন্দা মেহুলির মায়ের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবারই ওই বাড়ি থেকে আটক হওয়া যুগল মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত ও অঞ্জলি বাঙ্গিরোকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মুস্তাকের বাড়ি দক্ষিণ শহরতলির হরিদেবপুরে। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অঞ্জলি কলকাতায় একটি কলেজের ছাত্রী। এছাড়াও চন্দন পাশোয়ান নামে এক যুবককেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার সারারাত ধরে মুস্তাক, অঞ্জলি ও চন্দন ‘হাউস পার্টি’ করে। তাতে যোগ দিয়েছিলেন দিলশাদ ও মেহুলিও। 

আরও পড়ুন:

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে মৃত্যু হয় মেহুলির। তারপর দিলশাদের মৃত্যু হয়। মেহুলির মাথায় যে আঘাত রয়েছে, তা পড়ে যাওয়ার ফলে। মূলত অতিরিক্ত নেশার কারণেই মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।

এরপর শনিবার দুপুরে চন্দন ফ্ল‌্যাট থেকে বেরিয়ে যায়। অভিযোগ, বিভিন্ন যৌন উত্তেজক রিল ও অশ্লীল ভিডিও তৈরি করা হত ওই ফ্ল‌্যাটে। যদিও পুলিশ বিষয়টি যাচাই করছে। কী ধরনের মাদক ও নেশার বস্তু গ্রহণের জন‌্য দিলশাদ ও মেহুলির মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সোমবার ওই ফ্ল‌্যাটে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে মৃত্যু হয় মেহুলির। তারপর দিলশাদের মৃত্যু হয়। মেহুলির মাথায় যে আঘাত রয়েছে, তা পড়ে যাওয়ার ফলে। মূলত অতিরিক্ত নেশার কারণেই মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। 

আরও অনেক তরুণ-তরুণী আসতেন বলে পুলিশ জেনেছে। এক বা দু’রাত একসঙ্গে থাকতেন ওই তরুণ-তরুণীরা। ইচ্ছামতো মদ‌্যপান ও মাদক নিতেন। তার বদলে মোটা টাকা ‘প‌্যাকেজ’ হিসাবে তাঁদের তুলে দিতে হত দিলশাদের হাতে।

পুলিশ জেনেছে, ২০২৩ সালে তাঁর জন্মদিনের দিনই মেহুলি রামগড়ে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান শাহবাজ নামে এক যুবকের সঙ্গে। এরপর থেকে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে বিভিন্ন সময় লিভ ইন করেন। সর্বশেষ লিই ইন করতেন মুস্তাকের সঙ্গে। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন হাউস পার্টি ও রেভ পার্টিতে যেতেন মেহুলি। সেই সূত্রেই পরিচয় হয় কলেজ ছাত্রী অঞ্জলির সঙ্গে। মুস্তাক বেশিরভাগ সময় দিলশাদের সঙ্গে ওই ফ্ল‌্যাটে থাকত। সেখানে শুধু ওই তরুণীরা নন, আরও অনেক তরুণ-তরুণী আসতেন বলে পুলিশ জেনেছে। এক বা দু’রাত একসঙ্গে থাকতেন ওই তরুণ-তরুণীরা। ইচ্ছামতো মদ‌্যপান ও মাদক নিতেন। তার বদলে মোটা টাকা ‘প‌্যাকেজ’ হিসাবে তাঁদের তুলে দিতে হত দিলশাদের হাতে। এই ব‌্যাপারে আরও তথ‌্য জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *