ওড়িশার উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং পাকিস্তান থেকে রাজস্থান, ছত্তিশগড় হয়ে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু লাক্ষাদ্বীপের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরেও প্রবেশ করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেরলে বর্ষার আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটতে পারে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতেও একই সময়ে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টির জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে নেমেছে। কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবারও মহানগরী-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রার বিশেষ কোনও পরিবর্তন হবে না। তবে সোমবার থেকে ধীরে ধীরে পারদ ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এবং গরমের অস্বস্তি ফের বাড়তে পারে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি এবং ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
