স্মার্টফোন কি মানুষের সামাজিকতা কেড়ে নিচ্ছে? সাম্প্রতিক এক গবেষণা অন্তত সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে। গবেষকদের দাবি, গত দুই দশকে মানুষের দৈনন্দিন কথোপকথনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার।

Matthias Mehl এবং Valeria Pfeifer-এর যৌথ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক কম কথা বলছে। ২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ২,২০০ জনের উপর পরিচালিত ২২টি পৃথক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকরা।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৫ সালে একজন মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ১৬ হাজার শব্দ বলতেন। কিন্তু ২০১৯ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২,৭০০-তে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩৩৮টি শব্দ কম বলছেন মানুষ। বছরে যার পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার শব্দ। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Perspectives on Psychological Science-এ।

গবেষকদের মতে, মানুষ এখন বাস্তবের কথোপকথনের বদলে বেশি সময় কাটাচ্ছেন মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। ফলে পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমে যাচ্ছে।

শুধু কথাবার্তা কমে যাওয়াই নয়, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের সঙ্গে একাধিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যার যোগও খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় প্রভাব পড়তে পারে। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানুষের শারীরিক সক্রিয়তাও কমিয়ে দেয়। ফলে স্থূলতা, হৃদরোগ এবং জীবনযাত্রাজনিত বিভিন্ন অসুখের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। রাতে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহারের ফলে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমও বিঘ্নিত হয়, যার প্রভাব পড়ে ঘুমের উপর।

মানসিক স্বাস্থ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বাস্তব জীবনের সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়ায় একাকীত্ব, উদ্বেগ, মানসিক অবসাদ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রযুক্তি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোবাইল থেকে দূরে থাকা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য জরুরি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *