খবর অনলাইন ডেস্ক: আইএসএল-এর ২০২৫-২৬-এর মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের বিজয়কে ঘিরে শুক্রবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। খেলোয়াড়, কোচ, ক্লাব কর্মকর্তা, সমর্থক – সলকে একসাথে আনন্দে মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন। ট্রফি হাতে ছবি তুলতে দেখা গেল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ-সহ অন্যান্য খেলোয়াড়কে। এ দিন সিপিআই(এম)-এর যুব নেত্রী দীপিস্তা ধরকেও দেখা গেল সমর্থকদের ভিড়ে আনন্দে ভেসে যেতে।

কিশোর ভারতীতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে বৃহস্পতিবার ট্রফি উদ্‌যাপন পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের। সেই অপূর্ণ আনন্দই শুক্রবার পূর্ণতা পেল ক্লাব তাঁবুতে। আনুষ্ঠানিক ভাবে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের হাত থেকে ট্রফি ও পদক গ্রহণ করল লাল-হলুদ শিবির। তারপর মাঠ জুড়ে শুরু হল আবেগ, নাচ আর উচ্ছ্বাসের এক অনন্য মুহূর্ত।

২২ বছর পর জাতীয় স্তরে ট্রফি জিতল ইস্টবেঙ্গল।

বৃহস্পতিবার রাতেই আইএসএলের ট্রফি পৌঁছে যায় ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে। শুক্রবার দুপুরের অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন সমর্থকেরা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, ফুটবলারদের বহনকারী বাস ক্লাব চত্বরে ঢুকতেই সমস্যায় পড়ে। কয়েক জন ফুটবলার আলাদা গাড়িতে এলেও তাঁদেরও সমর্থকদের ভালোবাসার ভিড় সামলাতে হয়। তবে বিরক্তির বদলে সেই আবেগেই গা ভাসান প্রভসুখন গিল ও এডমুন্ড লালরিনডিকার মতো ফুটবলারেরা। গাড়ি থেকে নেমেই তাঁরা যোগ দেন সমর্থকদের উল্লাসে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্লাবে পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কোচ, ক্লাব সভাপতি ও অন্যান্য কর্তা। পরে মাঠে তৈরি করা বিশেষ মঞ্চে একে একে ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়। ট্রফি হাতে উঠতেই যেন আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে গোটা মাঠে।

আনোয়ার আলি, মহম্মদ রশিদ ও কেভিন সিবিলেরা মাঠের মধ্যেই ট্রফি নিয়ে নাচতে শুরু করেন। চোট থাকা সত্ত্বেও ক্রাচ হাতে আনন্দে শামিল হন সাউল ক্রেসপো। বিদেশি ফুটবলার ইউসেফ এজেজারি ও অ্যান্টন সোজবার্গও উৎসব থেকে দূরে থাকেননি। তবে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে এডমুন্ড ও আনোয়ারের মধ্যে। লাল-হলুদ জার্সি গায়ে তাঁদের উদ্‌যাপনে গ্যালারির সমর্থকেরাও তাল মেলান। ক্লাবের থিম সং বাজতে থাকায় মুহূর্তটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।

লাল-হলুদ সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দে ভাসলেন সিপিআই(এম)-এর যুব নেত্রী দীপ্সিতা ধর।

অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিক বৈঠকে শৌভিক চক্রবর্তী দলের ঐক্যের কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, অনেক দলে সতীর্থদের মধ্যেই বিভাজন দেখা যায়, কিন্তু ইস্টবেঙ্গলে সেই পরিবেশ নেই। বরং সবাই একে অপরকে সমর্থন করেছেন। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দশ জন নিয়ে ৩-৩ ড্র দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

লাল-হলুদ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।

অন্য দিকে, মোহনবাগানের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে প্রভসুখন গিলের গুরুত্বপূর্ণ সেভকে অনেকেই ট্রফি জয়ের টার্নিং পয়েন্ট মনে করছেন। যদিও বিনয়ী গিল কৃতিত্ব দিতে চান পুরো দলকে। তাঁর মতে, গত প্রায় এক বছর ধরে ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল এই সাফল্য। তিনি বলেন, সুযোগ এসেছিল, নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, এই ট্রফি লড়াই করে অর্জন করতে হয়— এটি বাজার থেকে কিনে আনা যায় না।
ছবি: সঞ্জয় হাজরা

ট্রফি হাতে ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজোঁ (বাঁ দিকে)।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *