নিয়মিত রূপচর্চা যারা করেন, তাঁরা সকলেই জানেন যে টোনার হিসেবে যত নামি দামি প্রোডাক্টই ব্যবহার করা হোক না কেন, বিশুদ্ধ গোলাপজলের মতো কাজ আর কোনওটিই করে না (Rose Water)।
ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া এবং ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে ত্বকের উপর। একগাদা প্রসাধন নয়, সঠিক টোনারই এমন সমস্যার সমাধান করার পক্ষে যথেষ্ট। ত্বক অনুজ্জ্বল হলে কোনও প্রসাধনীই খোলতাই হয় না তার উপর। ফলে দুর্গাপুজোর সাজে যতই মেক-আপ, গয়না জোড়া যাক না কেন, সাজ মনমতো হয় না।
আরও পড়ুন:
বাজারচলতি টোনার তো রইলই, তবে চাইলে বাড়িতেই সহজ টোনার বানিয়ে নেওয়া যায়। কীভাবে? জেনে নেওয়া যাক।

১। ভাপে তৈরি গোলাপ জল
প্রথমে একটি বড় পাত্র নিন। তার ভিতরে গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন। পাত্রের মাঝখানে একটি ছোট পরিষ্কার বাটি বসান। বড় পাত্রে এমন পরিমাণে জল ঢালুন যাতে গোলাপের পাপড়িগুলি জলে ডুবে যায়। তবে খেয়াল রাখবেন, জল যেন মাঝখানে রাখা ছোট বাটির ভিতরে না ঢোকে। অতি সাবধানে উনুনে বসান পাত্রটি।
এরপর বড় পাত্রটি একটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। ঢাকনার উপর কয়েকটি বরফের টুকরো রাখুন। এবার আঁচ কমিয়ে জল ধীরে ধীরে ফুটতে দিন।
জল ফুটলে বাষ্প উপরে উঠে ঠান্ডা ঢাকনার সংস্পর্শে এসে জলকণায় পরিণত হবে। সেই জলকণা ধীরে ধীরে মাঝখানে রাখা বাটির মধ্যে পড়বে। এই সংগৃহীত জলই হবে গোলাপ জল।
২। দ্রুত গোলাপ জল তৈরির সহজ পদ্ধতি
যদি দ্রুত গোলাপ জল তৈরি করতে চান, তাহলে আরও সহজ একটি পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। একটি পাত্রে পরিষ্কার জল ঢেলে তাতে ভালোভাবে ধোয়া গোলাপের পাপড়ি দিন। এবার প্রায় ২০ মিনিট কম আঁচে ফুটতে দিন। পাপড়িগুলি নরম হয়ে গেলে এবং জলের রং পরিবর্তিত হলে আঁচ বন্ধ করে দিন।
মিশ্রণটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা হলে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে পরিষ্কার কাচের বোতলে ভরে রাখুন।

টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে মুখ পরিষ্কার করার পর তুলোয় অল্প গোলাপ জল নিয়ে আলতো করে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। এছাড়া পরিষ্কার স্প্রে বোতলে নিয়ে মুখে স্প্রে করতে পারেন। চাইলে বেসন, মুলতানি মাটি বা চন্দনের গুঁড়োর মতো উপাদানের সঙ্গে সাধারণ জলের বদলে অল্প গোলাপ জল মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরি করা যায়।
তবে বাড়িতে তৈরি গোলাপ জলে কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ থাকে না, তাই দীর্ঘদিন রেখে না দেওয়াই ভালো। নয়তো জীবাণু জন্মাতে পারে তার মধ্যে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
