ইস্টবেঙ্গল এফসি: ৪ (এডমুন্ড লালরিন্দিকা হ্যাট্ট্রিক, বিপিন সিং ১) মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট: ১ (মনবীর সিং)

খবর অনলাইন ডেস্ক: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ৪-১। স্কোরলাইনটাই বলে দিচ্ছে ম্যাচের গল্প কতটা একপেশে ছিল। তবে রবিবার যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গলের জয়কে শুধু একটি ট্রফি জয়ের ঘটনা বললে কম বলা হবে। ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপ হাতে তোলার পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে হারিয়ে পুরনো হারেরও জবাব দিল লাল-হলুদ।

– বিজ্ঞাপন –

আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই—এডমুন্ড লালরিন্দিকা। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করে ডার্বির মঞ্চকে নিজের করে নিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে বিপিন সিংয়ের গোল। বিপরীতে মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোল মনবীর সিংয়ের। ডুরান্ডের ডার্বি ইতিহাসে এডমন্ডের হ্যাটট্রিকও নজির হয়ে রইল।

২২ মিনিটেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ

ফাইনালের মতো ম্যাচে শুরুতেই তিন গোলের ব্যবধান—এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। ইস্টবেঙ্গল অবশ্য রবিবার সেটাই করে দেখাল। প্রথম ২২ মিনিটের মধ্যেই বিপিন সিং এবং এডমন্ডের জোড়া গোলে ৩-০ এগিয়ে যায় তারা।

মাঝে মনবীর সিং একটি গোল করে মোহনবাগানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিরতির আগেই নিজের তৃতীয় গোল করে সেই সম্ভাবনাও কার্যত শেষ করে দেন এডমন্ড। দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না হলেও ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত।

আক্রমণে এডমুন্ড লালরিন্দিকা।

বিজ্ঞাপন

মোহনবাগানের বড় সমস্যা কোথায়?

ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ যতটা ধারালো ছিল, মোহনবাগানের রক্ষণ ততটাই ছন্নছাড়া। প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার জন্য যে সংগঠিত প্রতিরোধ প্রয়োজন ছিল, তা দেখা যায়নি।

শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ এবং অভিমেইতেইদের রক্ষণ বারবার ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে সমস্যায় পড়েছে। বিশেষ করে এডমন্ডকে সামলাতে না পারার ফলই শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধান।

মোহনবাগানের সেমিফাইনাল ঘিরে সূচি ও সফরের ধকল ছিল। শিলংয়ে বৃষ্টিভেজা মাঠে ম্যাচ খেলে কলকাতায় ফিরে ফাইনালে নামতে হয়েছিল সবুজ-মেরুনকে। সেই ক্লান্তির প্রভাব দলের খেলায় পড়েছিল বলেই মনে হয়েছে। তবে ফাইনালে চার গোল হজমের ব্যাখ্যা শুধুমাত্র ক্লান্তি দিয়ে করা কঠিন।

‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ হলেন এডমুন্ড লালরিন্দিকা।

হাবাসের ‘বদলা’ সম্পূর্ণ

এই ম্যাচের আরও একটি আলাদা গল্প আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে ঘিরে। যিনি একসময় মোহনবাগানের কোচ হয়ে ইস্টবেঙ্গলকে একাধিকবার হারিয়েছেন, এবার সেই হাবাসই লাল-হলুদের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তাঁর পুরনো দলকে হারালেন।

ইস্টবেঙ্গলের পরিকল্পনায় ছিল দ্রুত আক্রমণ, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং গোল পাওয়ার পর সংগঠিত রক্ষণ। বিপরীতে মোহনবাগান বারবার আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করলেও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের সংগঠন ভাঙতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে সবুজ-মেরুন বল দখলে রাখার চেষ্টা করলেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের রক্ষণাত্মক কাঠামো ধরে রাখে। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর হাতছাড়া হয়নি।

প্রিয় দলের জয়ে উচ্ছ্বসিত লাল-হলুদ সমর্থকেরা।

মাঝমাঠে রশিদ, সামনে এডমন্ড

ইস্টবেঙ্গলের এই জয়ের পিছনে শুধু এডমন্ডের হ্যাটট্রিক নয়, মাঝমাঠের দাপটও বড় কারণ। মহম্মদ রশিদ গোটা ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ, পাস এবং আক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিং, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করেছেন।

ইস্টবেঙ্গলের খেলায় সবচেয়ে বড় পার্থক্য ছিল তাগিদে। প্রতিটি বলের জন্য লড়াই, আক্রমণে দ্রুত উঠে যাওয়া এবং সুযোগ তৈরি হলেই তা কাজে লাগানো—এই জায়গায় লাল-হলুদ অনেক বেশি কার্যকর ছিল।

পরিসংখ্যান এক কথা বললেও স্কোরলাইন অন্য কথা

মজার বিষয়, ম্যাচের একাধিক পরিসংখ্যানে মোহনবাগান এগিয়ে ছিল। বল দখল, মোট শট কিংবা গোলে শট—কিছু ক্ষেত্রেই সবুজ-মেরুনের সংখ্যা বেশি। কিন্তু ফুটবলে শুধু বল দখল করলেই ম্যাচ জেতা যায় না। সুযোগকে কতটা নিখুঁত ভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত সেটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়।

ইস্টবেঙ্গল সেই জায়গাতেই এগিয়ে। মোহনবাগানের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে তারা চারটি গোল করেছে। আরও কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়েছিল।

ছবি: সঞ্জয় হাজরা



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *