হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে নাকি বন্ধ—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরান জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী এখনও সচল রয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে পুনরায় তীব্র হয়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে ১৪০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ শুরু করেছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করেছে। এই নতুন উত্তেজনা গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি করা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে কার্যত যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চুক্তি লঙ্ঘনের দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছেন।

তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং মধ্যস্থতাকারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসি হামলা চালায়। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এটি চলাচল অক্ষম হয়ে পড়ে। এছাড়া জাহাজটির এক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটির নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ করে লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রসহ ১৪০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে। এর জবাবে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ উপকূলের একাধিক সামরিক ও যোগাযোগ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম ধাপে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

তবে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, একতরফা চুক্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে, যা চলমান বিরোধে তেহরানের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *