খবর অনলাইন ডেস্ক: জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং সরকারি হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসার নামে ওয়াংচুককে বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
সোমবার জরুরি ভিত্তিতে মামলাটির শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর দাবি, সফদরজং হাসপাতালে তাঁর স্বামীর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। সেই কারণেই হাসপাতালের ওপর তাঁদের আস্থা নষ্ট হয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
সোনমের পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ে গীতাঞ্জলির অভিযোগ
সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে ডা. গীতাঞ্জলি আংমো জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছিল যে সোনম ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা ২.৯-এ নেমে গিয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের প্রকাশিত স্বাস্থ্য-বুলেটিনে এই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র বলা হয়েছে যে, তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা কমছে।
ডা. আংমোর আরও দাবি, একটি স্বাধীন পরীক্ষাগারে করা পরীক্ষায় সোনম ওয়াংচুকের পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.৫ পাওয়া গিয়েছে, যা তাঁদের মতে স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওয়াংচুককে ছুটি দিতে রাজি হয়নি এবং তাঁর পছন্দের কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
গীতাঞ্জলি বলছেন, সোনম ‘অবৈধ ভাবে আটক’
ডা. গীতাঞ্জলি আংমোর আরও অভিযোগ, হাসপাতালের যে তলায় সোনম ওয়াংচুক ভর্তি রয়েছেন, সেখানে প্রায় ৩০ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, হাসপাতাল চত্বরে ১০০-রও বেশি পুলিশ সদস্য উপস্থিত রয়েছেন। এর ফলে ওয়াংচুকের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের চলাফেরার উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতিকে তিনি চিকিৎসা নয়, বরং “অবৈধ আটক” বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যদি সোনম ওয়াংচুকের কোনও ক্ষতি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারকেই নিতে হবে।
ডা. আংমো জানিয়েছেন, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আগেই তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই দিল্লি হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের দৈনিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যন্তর মন্তরে যে অবস্থান আন্দোলন শুরু করে, তাতে সংহতি প্রকাশ করে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার শেষ রাতে দিল্লি পুলিশ সোনমকে জোর করে তাঁকে তাঁর অনশনমঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
