অহমদাবাদ: শুধুমাত্র বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করলেই হিন্দু বিবাহ আইনত বৈধ হয়ে যায় না। হিন্দু বিবাহকে বৈধ বলে গণ্য করতে হলে প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান, বিশেষ করে ‘সপ্তপদী’ বা সাত পাকে ঘোরার মতো রীতি পালন করা আবশ্যক। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে এমনটাই পর্যবেক্ষণ করেছে গুজরাত হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ে শুধুমাত্র একটি সামাজিক অনুষ্ঠান বা ‘নাচগানের আসর’ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও আইনি বিধান।

মামলাটি গুজরাতের অহমদাবাদের বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে ব্রিটেনপ্রবাসী কৌশল সোনারের কথিত বিবাহকে কেন্দ্র করে। বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথিতে কৌশলের স্বাক্ষর থাকলেও তিনি সেই বিয়ের বৈধতা অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, তাঁকে না জানিয়েই প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ের নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন জানতেই পারেননি যে তাঁর নামে একটি বিবাহ নিবন্ধিত হয়েছে।

– বিজ্ঞাপন –

এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে গুজরাতের একটি পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন কৌশল। তবে গত বছরের নভেম্বরে ওই আদালত রায় দেয় যে বিয়েটি বৈধ। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই গুজরাত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

সম্প্রতি বিচারপতি ইলেশ ভোরা এবং বিচারপতি আর টি বছনির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করে পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। হাই কোর্ট জানায়, সংশ্লিষ্ট বিয়ের ক্ষেত্রে কোনও প্রথাগত হিন্দু বিবাহের আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়নি। ফলে সেই বিবাহকে আইনত বৈধ বলে গণ্য করা যায় না।

রায়ে আদালত হিন্দু বিবাহ আইনের ৭ নম্বর ধারার উল্লেখ করে জানায়, হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য ‘সপ্তপদী’-সহ প্রচলিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা বাধ্যতামূলক। এই সমস্ত আচার-অনুষ্ঠানই হিন্দু বিবাহকে পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ মর্যাদা প্রদান করে।

আদালতে কৌশল জানান, সংশ্লিষ্ট মহিলার সঙ্গে তাঁর কোনও দিনই বৈধ বিবাহ হয়নি। তাঁদের মধ্যে কোনও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে বিয়ে হয়নি এবং তাঁরা কখনও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসও করেননি। তাঁর অভিযোগ, তাঁর সম্মতি ছাড়াই প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ের নথিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট মহিলাও আদালতে স্বীকার করেন যে তাঁদের বিয়ের সময় কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়নি এবং তাঁরা কখনও দাম্পত্য জীবনও কাটাননি।

দু’পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে গুজরাত হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, শুধুমাত্র বিবাহ নিবন্ধনের নথি কোনও হিন্দু বিবাহকে বৈধ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি পালন না হলে সেই বিবাহ আইনত স্বীকৃতি পাবে না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *