রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বেতন অগ্রিম নেওয়ার নতুন ব্যবস্থা আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই প্রকল্পে চিকিৎসা থেকে পড়াশোনা বা সংসারের বিশেষ কোনো প্রয়োজনে একদিকে যেমন স্বল্পমেয়াদে বেতনের একটি অংশ আগাম পাওয়া যাবে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে তুলনামূলক বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ারও সুযোগ থাকছে। অর্থ দপ্তরের ই-গভর্ন্যান্স গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হবে গোটা ব্যবস্থা।
প্রকল্পে মূলত দু’ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রথমটি ‘শর্ট-টার্ম অ্যাডভান্স’। এই ব্যবস্থায় কোনও কর্মী সংশ্লিষ্ট মাসের মোট প্রাপ্য বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম নিতে পারবেন। নেওয়া টাকা সর্বোচ্চ ৬০ দিন অথবা পরবর্তী বেতন চক্রের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা শোধ করলে কোনও সুদ দিতে হবে না। এমনকি প্রসেসিং ফি, প্ল্যাটফর্ম ফি বা কনভেনিয়েন্স ফি-ও ধার্য হবে না।
– বিজ্ঞাপন –
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা না দেওয়ার কারণে কর্মীর তরফে দেরি হলে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ট্রানজাকশন ফি নেওয়া হতে পারে। সরকারি দপ্তর বা ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও)-র কারণে বিলম্ব হলে কোনও অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।
দ্বিতীয় সুবিধাটি ‘মাল্টি-মান্থ অ্যাডভান্স’। এই ব্যবস্থায় ঋণ পরিশোধের জন্য ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মাস পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। ঋণদাতার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা মেনে ঋণের অঙ্ক নির্ধারিত হবে। কর্মীর মাসিক মোট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে ঋণের কিস্তি বা ইএমআই কোনওভাবেই মাসিক মোট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। কর্মরত অবস্থায় ঋণ পরিশোধের মেয়াদও অবসরের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করতে পারবে না।
ঋণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল লেন্ডিং সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে কর্মীদের আগাম ‘কি ফ্যাক্ট স্টেটমেন্ট’ দেওয়া হবে। সেখানে সুদের হার, ঋণের শর্ত এবং অন্যান্য চার্জের বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। নির্ধারিত মেয়াদের আগেই সম্পূর্ণ ঋণ শোধ করলে কোনও ফোরক্লোজার বা প্রি-পেমেন্ট চার্জ দিতে হবে না।
তবে এই প্রকল্পে একসঙ্গে একটির বেশি অগ্রিম বা ঋণ চালু রাখা যাবে না। আগের ঋণের সম্পূর্ণ টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেই নতুন করে আবেদনের সুযোগ মিলবে। গোটা ব্যবস্থাটি যুক্ত থাকবে রাজ্যের ডব্লিউবিআইএফএমএস এবং এইচআরএমএস পোর্টালের সঙ্গে। কর্মীর ডিজিটাল সম্মতি নিয়ে সরাসরি বেতন থেকে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হবে। কোনও কর্মী চাকরি ছেড়ে দিলে বা অবসর নিলে তাঁর চূড়ান্ত পাওনা থেকে বকেয়া অর্থ আদায়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বিকল্প অর্থের জোগান তৈরি করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। তবে কতটা ঋণ পাওয়া যাবে, সুদের হার কত হবে এবং কী কী শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতার মূল্যায়ন ও প্রকল্পের নিয়মের উপর।
