পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যে আসনগুলোতে জিতেছে, তার প্রায় অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে জয়ী ব্যবধানের চেয়েও বেশি ভোটার নাম বাদ পড়েছিল বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ায়—এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি বিশ্লেষণে।
বুধবার রাতে ভারতীয় সংবামাধ্যম ‘স্ক্রল ইন’ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির জেতা ২০৭ আসনের মধ্যে ১০৫টিতে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা তাদের জয়ের ব্যবধানকে ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ৮৬টি আসন এমন, যেখানে আগে কখনও জিততে পারেনি দলটি।
এই নির্বাচনে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের।
এসআইআর নিয়ে বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে, যা মোট ভোটার তালিকার প্রায় ১২ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের বিষয় এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই প্রক্রিয়াকে শুরু থেকে সমর্থন জানিয়েছিল একমাত্র বড় দল বিজেপি, যা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রবল জনঅসন্তোষ থাকলেও ভোটার তালিকা থেকে বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়াও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে যাদবপুর আসনের কথা বলা হয়েছে। এখানে ৫৬ হাজারের বেশি ভোটার বাদ পড়লেও বিজেপি প্রথমবারের মতো প্রায় ২৭,৭১৬ ভোটে জয় পায়। দলটির ভোটসংখ্যাও দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পায়।
আরেকটি উদাহরণ ইন্দাস আসন। এখানে ৭,৫১৫ ভোটার বাদ পড়ার পর বিজেপি মাত্র ৯০০ ভোটে জয়ী হয়।
তৃণমূলের বহু শক্ত ঘাঁটিতেও দেখা গেছে একই চিত্র। টালিগঞ্জ আসনে দীর্ঘদিনের নেতা অরূপ বিশ্বাস প্রায় ৬ হাজার ভোটে হেরে যান, যেখানে প্রায় ৩৭ হাজার ভোটার বাদ পড়েছিল।
এছাড়া একাধিক মন্ত্রীও একইভাবে পরাজিত হয়েছেন, যেসব আসনে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা তাদের হারের ব্যবধানের চেয়েও বেশি।
মমতার আসনেও একই চিত্র
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ভবানীপুর আসনে। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫,১০৫ ভোটে হেরে যান বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী’র কাছে। অথচ এই আসনেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৫১ হাজারের বেশি ভোটার নাম বাদ পড়েছিল।
নির্বাচনের ফলাফল যে শুধু জনমতের প্রতিফলন, তা নয়, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াও বড় ভূমিকা রাখতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে এই বিশ্লেষণ। যদিও এর চূড়ান্ত প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক এখনও চলমান।



