ঢাকা: ৩২ নম্বর ধানমণ্ডি। বাংলাদেশের বিখ্যাত ঠিকানা। বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের বাসভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় হাসিনা সরকারের পতনের পর। সেই বাড়ির কথা উঠে এল এফ এম শাহিনের লেখা নতুন বইতে। লেখক ও পরিচালক এফ এম শাহিনের লেখা ‘ধানমণ্ডি ৩২ পোড়াবাড়ির সংলাপ’ বইটি প্রকাশ হল কলকাতায়। ২৩ অগস্ট, রবিবার, বিকেল ৫টায় রবীন্দ্র সদন চত্বরের অবনীন্দ্র সভাঘরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পদ্মশ্রী ড. নারায়ণ চক্রবর্তী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই বইতে অতীতের চোখে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ দেখার দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন লেখক। বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি উঠে এসেছে বইতে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের নিজেদেরকে ঠিক করতে হবে, তারা কোন পরিচয়ে টিকে থাকবে। বাঙালি নাকি ভিন্ন কোনও পরিচয়ে? পোড়াবাড়ির সংলাপ যেন আজকের বাংলাদেশের জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে।”

বর্ষীয়ান সাংবাদিক মানস ঘোষ বলেন, “এফ এম শাহীন ধানমন্ডি ৩২-এর শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি নিয়ে অসাধারণ সাহিত্যচর্চা করেছেন। ইতিহাস যে চলমান, সেটাই এই উপন্যাসে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।”

মানস ঘোষ আরও বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করেছি। একাত্তরের পাকিস্তানিদের গণহত্যা রিপোর্ট থেকে শুরু, কিন্তু আজও আমি বাংলাদেশের মানুষকে চিনে উঠতে পারিনি। ২০২৪-এ শেখ হাসিনার সরকার বদলের পর মুজিবের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

অধ্যাপক রুবি সাইন বলেন, “শাহিনের উপন্যাস বাংলাদেশ, বাঙালির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একটি সেতুতে বেঁধেছে, যা এক অসাধারণ ভাবনা। তবে আজ বাংলাদেশে যা দেখছি, এটা সত্যি ভীষণ ভয়ের এবং উদ্বেগের। দেশটাকে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। ‘

লেখক এফ এম শাহীন বলেন, “মানব সভ্যতার বিকাশ সংলাপের মধ্যে দিয়ে হয়েছে। তাই আমাদের সংলাপ জারি রাখতে হবে, যেকোন সময়ে, যেকোন মুহূর্তে। সকল সংকট মোকাবেলায় সংলাপ জরুরি।”

কলকাতার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পরম্পরা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে বইটি। ধানমণ্ডি ৩২-এর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সমকালীন বাস্তবতার নানা প্রশ্নকে সাহিত্যিক সংলাপের আঙ্গিকে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে বইটিতে।

আলোচক ও উপস্থিত অতিথিদের মতে, গ্রন্থের শিরোনাম ‘ধানমণ্ডি ৩২ পোড়াবাড়ির সংলাপ’ মূলত একটি প্রতীকী উচ্চারণ। ধানমণ্ডি ৩২ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। সেই স্মৃতি, ধ্বংস, ইতিহাসের পাঠ এবং সময়ের পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লেখক বইটিতে অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সংলাপ নির্মাণের চেষ্টা করেছেন।

এফ এম শাহীন দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সৃষ্টিশীল কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, মানবিকতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরা। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মাইক’ ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে তাঁর অন্যান্য সৃজনশীল কাজও পাঠক ও দর্শকমহলে আলোচিত হয়েছে।

প্রকাশক গৌতম দাসের মতে, বইটি দুই বাংলার পাঠকের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করবে।

গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা বাপ্পাদিত্য বসু, বিশিষ্ট ভারতীয় কলামিস্ট, গবেষক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বোস, বিশিষ্ট লেখক বিজয় দত্ত, বিশিষ্ট লেখক শরবিন্দু সাহা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ও শেষে গান পরিবেশন করেন কমলিকা চক্রবর্তী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *