পর্তুগাল: ৫ (ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ২, নুনো মেন্ডেস, আবদুভোহিদ নেমাতভ আত্মঘাতী, রাফায়েল লেয়াও) উজবেকিস্তান: ০
খবর অনলাইন ডেস্ক: সমালোচনার জবাব মাঠেই দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তাঁর জোড়া গোলে ভর করে ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ কে-র ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল। এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় ওঠার পথে বড় পদক্ষেপ করল রবার্তো মার্তিনেজের দল।
– বিজ্ঞাপন –
প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গেল পর্তুগাল
প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর পর্তুগালের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল খেলেছে ইউরোপের দলটি। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন রোনাল্ডো। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই গোলের খাতা খোলার পাশাপাশি বিরতির আগে আরও একটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন নজির গড়েন তিনি।
খেলা শুরুর মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় জোয়াও কান্সেলোর নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভকে পরাস্ত করেন রোনাল্ডো। সেই গোলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় পর্তুগাল। এর পর দীর্ঘ সময় বলের দখল ধরে রেখে উজবেকিস্তানকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে তারা।
১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্ডেস। তাঁর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক নেমাতভকে কোনও সুযোগই দেয়নি। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বের্নার্দো সিলভা ধারাবাহিক ভাবে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলছিলেন, যার জবাব দিতে ব্যর্থ হয় উজবেকিস্তানের রক্ষণ।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে আবার গোল করেন রোনাল্ডো। ব্রুনো ফার্নান্দেসের নিখুঁত থ্রু-পাস ধরে সহজেই জালে বল জড়িয়ে ৩-০ করেন পর্তুগাল অধিনায়ক। কার্যত বিরতির আগেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয়ার্ধে আরও ২টি গোল
দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে উজবেকিস্তান। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির বদল হয়নি। উল্টে পর্তুগালের লাগাতার চাপে আসে চতুর্থ গোল। বক্সে বিপজ্জনক ক্রস সামলাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভ।
এর পরও আক্রমণের ধার কমায়নি পর্তুগাল। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ কয়েকজন পরিবর্ত খেলোয়াড় নামালেও দলের গতি বজায় থাকে। শেষ দিকে ভিতিনিয়ার পাস থেকে বদলি ফুটবলার রাফায়েল লেয়াও পঞ্চম গোলটি করে উজবেকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
স্কোরলাইনই ম্যাচের চিত্র স্পষ্ট করে দেয়। বলের দখল, সুযোগ সৃষ্টি এবং আক্রমণের ধার—সব বিভাগেই প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে যায় পর্তুগাল। উজবেকিস্তান একটি গোল পেলেও ভিএআর পর্যালোচনায় আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে পুরো ম্যাচেই কার্যত নির্ভার ছিলেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা।
ম্যাচের মূল নায়ক রোনাল্ডোই
তবে ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন রোনাল্ডো। প্রথম ম্যাচের পর তাঁর প্রথম একাদশে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, ৪১ বছর বয়সেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সেই সব সমালোচনার জবাব দেন তিনি। জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের অসাধারণ উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করলেন পর্তুগাল অধিনায়ক।
এই বড় জয়ের ফলে গ্রুপ কে-তে শীর্ষস্থানের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল পর্তুগাল। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় হারের পর শেষ ষোলোয় ওঠার আশা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল উজবেকিস্তানের।
