আর্জেন্টিনা: ৩ (ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি, এনসো ফার্নান্দেজ)   মিশর: ২ (ইয়াসের ইব্রাহিম, মোস্তফা জিকো)

খবর অনলাইন ডেস্ক: আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে মিশরকে ৩-২ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে কোলোম্বিয়া অথবা সুইৎজারল্যান্ড।

– বিজ্ঞাপন –

এগিয়ে গেল মিশর, মেসির পেনাল্টি ব্যর্থ

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। প্রথমার্ধে মারওয়ান আতিয়ার দারুণ ক্রস থেকে ইয়াসের ইব্রাহিম হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

এর কিছুক্ষণ পরই সমতায় ফেরার বড় সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতরে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় দলটি। তবে লিওনেল মেসির নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম নন-শুটআউট পেনাল্টি, যার মধ্যে চারটিই তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। একই টুর্নামেন্টে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলারও হন তিনি।

এরপরও একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন শোবেইর। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেসের নিশ্চিত গোলও রুখে দেন তিনি।

মিশরের গোল বাতিল, কিছুক্ষণ পরেই গোল

দ্বিতীয়ার্ধে মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে মোস্তফা জিকো বল জালে জড়ালেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়। বিল্ড-আপে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ওপর ফাউলের অভিযোগে গোলটি স্বীকৃতি পায়নি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ।

বিজ্ঞাপন

তবে কিছুক্ষণ পরই আবারও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে সালাহর তৈরি করা সুযোগ থেকে হাসেম হাসানের ক্রসে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন মোস্তফা জিকো। তখন মনে হচ্ছিল, বড় অঘটনের মুখেই পড়তে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।

ছবি বদলে গেল শেষ ১১ মিনিটে

কিন্তু ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে বদলে যায় সব কিছু।

প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড থেকে একটি গোল শোধ করে আর্জেন্টিনা। এরপর ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে গনসালো মন্তিয়েলের পাস থেকে দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে গোল করে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি। গোলরক্ষক শোবেইর বল স্পর্শ করলেও তা ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। টুর্নামেন্টে এটি ছিল মেসির অষ্টম গোল।

আনন্দে কেঁদে ফেললেন মেসি

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে জয়সূচক গোল করেন এনসো ফার্নান্দেজ। শেষ বাঁশি বাজার পর আনন্দে সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে আবেগে কেঁদে ফেলেন মেসি।

অন্যদিকে, ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিশর। বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত এবং শেষ মুহূর্তের ঘটনার পর তাদের কোচিং স্টাফের এক সদস্য লাল কার্ডও দেখেন।

ম্যাচশেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি মাথা তুলে তাকাতেও পারছি না। আমি খুবই আবেগপ্রবণ। কী অসাধারণ একদল খেলোয়াড়! এর বেশি কিছু বলার নেই।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *