কলকাতা: খাবারের গুণমান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুরসভার (KMC) অভিযানকে স্বাগত জানালেও পরিদর্শনের নিয়ম এবং শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আরও স্পষ্টতা চাইছেন কলকাতার রেস্তরাঁ মালিকেরা। সম্প্রতি খাদ্য নিরাপত্তা অভিযানের পর লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়া ৪০টি রেস্তরাঁর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে KMC। এরপরই বিষয়টি নিয়ে রেস্তরাঁ শিল্পে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রেস্তরাঁ মালিকদের বক্তব্য, নিয়মিত খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষা প্রয়োজন। তবে কোনও অনিয়ম গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে এবং কোনটি সংশোধনযোগ্য—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকা দরকার। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর মতো কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ব্যবসার মরসুম সামনে থাকায়, কোনও বিভ্রান্তি ছাড়াই নিয়ম মেনে ব্যবসা চালানোর সুযোগ চান তাঁরা।
– বিজ্ঞাপন –
ন্যাশনাল রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (NRAI)-র কলকাতা চ্যাপ্টারের প্রধান পীযূষ কঙ্কারিয়া জানান, খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা যায় না এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপকে সংগঠন সমর্থন করে। তবে সংশোধনযোগ্য ত্রুটির ক্ষেত্রে আগে সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁকে সমস্যা চিহ্নিত করে তা ঠিক করার নির্দিষ্ট সময় দেওয়া এবং পরে পুনরায় পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে তাঁর মত।
তাঁর বক্তব্য, গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, বারবার নিয়ম ভাঙা অথবা সংশোধনের নির্দেশ পালন না করার মতো ক্ষেত্রে লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রেস্তরাঁয় পরিদর্শনের সময় একই ধরনের নিয়ম ও মানদণ্ড প্রয়োগ করার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
পুজোর আগে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ পদক্ষেপের দাবি
কলকাতার হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায় দুর্গাপুজোর সময় বিপুল ভিড় হয়। ফলে পুজোর আগে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম আরও পরিষ্কার করে দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন শিল্পমহলের একাংশ।
নভোটেল কলকাতা হোটেল অ্যান্ড রেসিডেন্সেসের জেনারেল ম্যানেজার রাজনীশ কুমারের মতে, ক্রেতাদের আস্থা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুজোর আগে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত হয় এবং অযথা আতঙ্কও না ছড়ায়।
বিজ্ঞাপন
আরসালানের দাবি, ‘ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, স্পষ্ট নয়’
KMC-র অভিযানের পর নিজেদের অবস্থান নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে আরসালান। সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার মেহতাব খান জানিয়েছেন, তাঁদের রিপন স্ট্রিটের শাখায় আধিকারিকেরা দু’বার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। প্রথমবার ধনেপাতা, পেঁয়াজ ও আলুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় পরিদর্শনের সময় ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্টের ৩৮ নম্বর ধারার অধীনে একটি ফর্ম পূরণ ও স্বাক্ষর করা হয়। সেই পরিদর্শনে আচারি কাবাব নিয়ে আপত্তি তোলা হলেও কোনও পরীক্ষা বা নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি বলে দাবি আরসালানের।
সংস্থার COO হামজা আহসান জানিয়েছেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা তাঁদের প্রতিদিনের কাজেরই অংশ। আচারি কাবাবের ক্ষেত্রে টক ও আচারি ধরনের গন্ধ রেসিপিতে ব্যবহৃত মেরিনেশনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মেহতাব খানের আরও অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত KMC বা অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁরা কোনও সরকারি নোটিস পাননি। ফলে লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, নাকি সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে—তা নিয়েও নানা ধরনের কথা ছড়াচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
রেস্তরাঁ শিল্পের মূল দাবি, খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম আরও স্পষ্ট করে জানানো হোক এবং কোনও ত্রুটি থাকলে তা কী ভাবে সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিক। তাঁদের বক্তব্য, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বচ্ছ ও অভিন্ন নিয়মে অভিযান চালানো হলে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা—উভয়েরই আস্থা বাড়বে।
সূত্র: The Telegraph
