বাগশ্বর বাবাকে ফের বাংলায় আনছেন বিজেপি বিধায়কImage Credit: Tv9 Bangla
কলকাতা: ‘পাখন্ডী’ ! বাংলায় এসে যাঁরা দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খান তাঁদের উদ্দেশে এই ধরনের মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন ধীরেন্দ্রশাস্ত্রী তথা স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবা। তাঁর মন্তব্যে থানায় FIR পর্যন্ত দায়ের হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো নিন্দার ঝড় উঠেছিল বিগত কয়েকদিন ধরে। যখন সবেমাত্র ধীরে ধীরে এই ইস্যু থেকে মোড় অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময় বাগেশ্বর বাবাকে আবারও বাংলায় নিয়ে আসবেন বলে জানিয়ে দিলেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়।
কী বলেছেন বিজেপি MLA?
বিজেপি বিধায়কের দাবি, পুজোর পরেই নিজের এলাকায় বাগেশ্বর বাবাকে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এই ইস্যুতে ফের সরব বিরোধীরা। চিত্ত বলেন, “আমরা বাগেশ্বর মহারাজকে আনছি। কার্তিক মহারাজকেও আনব পুজোর পর। আমি ওইখানকার বিধায়ক, আপ্রাণ চেষ্টা করছি একটা অনুষ্ঠান যাতে করা যায়। আমরা কাউকে আক্রমণ করব না, আমাদের উপর আক্রমণ হলেও ছাড়ব না।”
সম্প্রতি হাওড়ায় আসেন বাগেশ্বর। তাঁর সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছিলেন একাধিক বিজেপি বিধায়কও। একটা সময় এই বাগেশ্বরকেই বাংলায় ঢুকতে দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দাবি বাবার। তবে সরকারের বদল হতেই পরিস্থিতি গেল বদলে। তবে, গণ্ডগোল হল তখন, যখন বাংলায় যাঁরা আমিষ খান তাঁদের পাখন্ডী বলে বসলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ। তিনি বলেন, “কারা কারা চান দুর্গাপুজোয় মাংসের দোকান বন্ধ হয়ে যাক? বাজেবাজে খাবার রান্না করা হয়। আমার এগুলো ভালো লাগে না। আপনারা এদের ধার্মিক বলবেন? পাখণ্ডী বলতে হবে।” এরপরই তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। যেখানে খোদ দেবীকে মাংস ভোগ হিসাবে দেওয়া হয়, সেই বাংলায় এসে খাবার নিয়ে এমন মন্তব্য কার্যত বাঙালিদের একাংশ মেনে নিতে পারিনি। এদিকে বাগেশ্বরের মন্তব্য নিয়ে পাল্টা বক্তব্য রেখেছেন বিজেপির রাজ্যসভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি যদিও বলেছেন, বাগেশ্বর নিজের মত রেখেছেন, তবে বাঙালি নবমীতে কচি পাঁঠাই খাবে। তাঁর মন্তব্যের একই লাইনে কথা বলতে শুরু করেন বাকি বিজেপি তাবড় নেতৃত্ব। এই সকল তর্ক-বিতর্কের মধ্যে ফের বাগেশ্বরকে মুর্শিদাবাদ আনতে চেয়ে বিজেপি বিধায়ক কি আগুনে ঘি ঢাললেন? উত্তর সময়ই দেবে।
