বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর রাঙ্গামাটি জেলা শাখার একাংশের নেতাকর্মীরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান–এর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছেন।

সোমবার ১ জুন বিকেল ৫টার দিকে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ শুধুমাত্র পদত্যাগ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বার্থ ও উন্নয়নের জন্য পার্বত্য মন্ত্রীর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে এই ধরনের ‘ষড়যন্ত্র’ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপি সরকার গঠন করলে দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রীও।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের বিষয়টি আগে থেকে আঁচ করতে পারেননি। তাদের ধারণা মন্ত্রণালয় পরিচালনা, রাঙামাটির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগপ্রক্রিয়ার জেরে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে দীপেন দেওয়ানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পাহাড়ের তিন জেলাকেন্দ্রিক। এখানে তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আসনের তিনটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বান্দরবান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাচিংপ্রু জেরী এবং খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য হচ্ছেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ছয় নেতা জানিয়েছেন, অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনগুলোর সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তিন সংসদ সদস্য একই দলের হওয়ায় তাদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। নানা কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থার সংকটও আছে। তারা জানান, দীপেন দেওয়ান মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ শুরু করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মূল সড়ক অবরোধ করে রাখেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচির কারণে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই পার্বত্য মন্ত্রী হন দীপেন দেওয়ান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *