
পড়ার সময়: ৮ মিনিট
নিউ এইজ পত্রিকার শীর্ষ খবর- Measles toll far higher than official count অর্থাৎ বাংলাদেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে
বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতাল, স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনিক রেকর্ডে পাওয়া তথ্যে সরকারি হিসাবের সঙ্গে বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমালোচনা এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখাচ্ছে।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এটি ইচ্ছাকৃত গোপন নয়, বরং তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এমন পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য আসতে দেরি হওয়ায় রিপোর্টে গরমিল দেখা দেয়।
উদাহরণ হিসেবে রংপুর বিভাগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো মৃত্যুর তথ্য না দিলেও স্থানীয় হাসপাতাল ও প্রশাসনিক রেকর্ডে অন্তত চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে বরিশাল ও ময়মনসিংহেও সরকারি ও স্থানীয় তথ্যের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ২৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেখানে অনেক কম সংখ্যা দেখিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত হাম বা হাম-জাতীয় উপসর্গে ৩৫২ জনের মৃত্যু এবং ৫৪ হাজার ৬৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক তথ্য প্রকাশ না হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে।


দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এর পেছনে কোনো অবহেলা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
রাজধানীতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজিত এক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী হামের সংক্রমণ বাড়লেও বাংলাদেশে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান ব্যবস্থায় ঘাটতি এবং ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, হঠাৎ করে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় কারণ অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে। এর পেছনে টিকার সংকট, রোগের ধরনে পরিবর্তন বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী বিভাগে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৭৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পুরো পরিস্থিতির কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর- Imports from US double in Jan-Apr অর্থাৎ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ।
এই আমদানির বড় অংশ এসেছে পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারই প্রভাব হিসেবে আমদানি বেড়েছে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে চুক্তিটি সই হয়। তবে নির্বাচনের আগে এমন চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট Donald Trump এর পারস্পরিক শুল্ক নীতি বাতিল করায় চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এআরটির আওতায় বাংলাদেশ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক কর প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে। আরও ২ হাজার ২১০ পণ্যের শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো হবে। এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় শুল্ক ছাড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গকে ‘অনুপ্রবেশকারী মুক্ত’ করার ঘোষণা দেওয়ার পর বাংলাদেশে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য সীমান্তে উত্তেজনা ও নতুন শরণার্থী সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে। এমন সময় এ ঘোষণা এলো, যখন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর চাপ সামাল দিচ্ছে।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর কয়েকটি জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও বীরভূমে একাধিক সহিংস ঘটনায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন সংখ্যালঘু মুসলিম। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে অনেক বৈধ নাগরিককেও এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট ভাঙচুর এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
ভারতের পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২০০টির বেশি মামলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর শত শত কোম্পানিকে পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ও মানবিক ইস্যুতে দায়িত্বশীল আচরণ না হলে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৫০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তদন্তে অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব নিয়োগে রাজনৈতিক সুপারিশ, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, মেধাবীদের বাদ দিয়ে দলীয় লোকজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় জেলা পুলিশ সুপারদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা ও থানা পর্যায়ে গিয়ে কনস্টেবলদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধার প্রমাণ খুঁজে বের করা কঠিন হলেও তদন্ত প্রতিবেদন আসতে শুরু করেছে এবং সব তথ্য পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশের প্রথম তেল ক্ষেত্র সিলেটের হরিপুরে ১৯৮৬ সালে তেল আবিষ্কারের পর ১৯৮৭ সালে বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়। টানা সাত বছর উৎপাদনের পর ১৯৯৪ সালে তেল উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। তখন লাভজনক না হওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয় বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, কারিগরি সমস্যা, ওয়েলহেড প্রেসার কমে যাওয়া ও অব্যবস্থাপনাই মূল কারণ হতে পারে। সাবেক পেট্রোবাংলা কর্মকর্তা মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, হরিপুর ক্ষেত্র পরিত্যক্ত করার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও বিস্তারিত প্রতিবেদন হয়নি। অথচ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তেল উত্তোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
তিন দশক পেরিয়ে গেলেও হরিপুরের অবশিষ্ট বিপুল তেল মজুদ উত্তোলনে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পেট্রোবাংলা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় স্থানীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আবারও গুরুত্ব বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা হরিপুরে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন।
এদিকে ২০২৩ সালে সিলেট-১০ কূপে নতুন করে তেলের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও এখনো বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়নি। পেট্রোবাংলা বলছে, জমিসংক্রান্ত জটিলতা শেষ হলে পাইপলাইন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় নতুন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানা তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছুটির দিন শনিবার বেছে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে আপিলের সুযোগ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়। শেখ হাসিনা ও মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
২০১০ সালের ১২ নভেম্বর সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল মইনুলের নেতৃত্বে এক সমন্বয় সভায় উচ্ছেদ কার্যক্রমের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। সভায় সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযানের সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন ও কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া বিদেশে ছিলেন। কেন তারা সে সময় দেশের বাইরে ছিলেন, তা নিয়েও রহস্য তৈরি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং জামিন স্থগিতের ঘটনায় তাঁর মুক্তি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। প্রথমে পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর হাইকোর্ট জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা স্থগিত হয়। পরে আরও পাঁচ এবং সর্বশেষ দুই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার বেশির ভাগের এজাহারেই তাঁর নাম ছিল না।
আইভীর আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁকে ধারাবাহিকভাবে মামলায় জড়ানো হচ্ছে। সর্বশেষ দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের পর হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখানো ও হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
একাধিক মামলার বাদী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তাঁরা এজাহারে কারও নাম দেননি এবং আইভীসহ অনেক আসামিকে চিনেন না। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশ মামলার আসামিদের নাম যুক্ত করেছে। কেউ কেউ ভাতার কার্ড বা টাকার আশ্বাসে মামলা করানোর অভিযোগও করেছেন।
পুলিশ বলছে, তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হবে। তবে আইভীর পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলার পর মামলায় জড়িয়ে মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে।

উচ্চ সুদের হার, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও ঋণসংকটে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ব্যাংকঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। গত তিন বছরে অন্তত ৪০০ শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে এবং অনেক কারখানা অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে।
জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বাড়ায় শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ও নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে। পোশাক খাতের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলার সংকট ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কাঁচামাল আমদানিও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি পরিবহন খরচের প্রভাব সরাসরি বাজারদরে পড়ছে।
মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তির দিকে। সরকারি হিসাবে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছে, তবে বাস্তবে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেশি বেড়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। চাল, তেল, ডিম ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
অর্থ সংকটে সরকারও চাপে রয়েছে। নতুন পে স্কেলের ঘোষণা থাকলেও অর্থের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। একই সময়ে সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নিচ্ছে, আর বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়াকে ঘিরে বাংলাদেশে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। নির্বাচনে বিজেপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও সীমান্ত ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ নাগরিকদের পুশব্যাক নিয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাওয়ার পর আলোচনা আরও তীব্র হয়। এর মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর শপথের আগের রাতে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার দায়িত্বশীল আচরণ না করলে দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিজেপি নেতাদের অনেক বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় এবং কোনো সংঘাত চায় না। তবে সীমান্তে হত্যা ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুশব্যাকের চেষ্টা হলে বাংলাদেশকেও কঠোর অবস্থান নিতে হতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনের আগে ও পরে বাংলাদেশ ইস্যুতে একাধিক বক্তব্য দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে উত্তেজনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য অব্যাহত থাকলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও চাপে পড়তে পারে।
