
Published
পড়ার সময়: ৯ মিনিট
অপরাধে যুক্ত ব্যক্তির দলীয় পদ-পরিচয় না দেখে গ্রেপ্তারে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা, জাপানি ঋণ নিয়ে সরকারের উদ্বেগ, পাঁচ বছরে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অন্তত ৩০০ বন্দির মৃত্যু – বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রের শিরোনামে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
‘অপরাধে জড়ালে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না’ সমকালের শিরোনাম। খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরে অপরাধ পর্যালোচনা সভা থেকে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে অপরাধে যুক্ত ব্যক্তির দলীয় পদ-পরিচয় না দেখে গ্রেপ্তার করতে হবে।
সরকার দলের নেতাকর্মী বা দলীয় পরিচয়ে যারা চাঁদাবাজি, দখল ও অপরাধমূলক কাজে জড়াচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তারে এখন থেকে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতামত নিতে হবে না। অপরাধে সম্পৃক্ত হলেই গ্রেপ্তার করা হবে, দলীয় পদ বা পরিচয় দেখা হবে না।
গতকালের সভায় ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, ৬৪ জেলার এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সশরীরে ও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির সভায় বক্তৃতা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. সায়েদুর রহমান।
সভায় জানানো হয়, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা নেবে পুলিশ। এমন নির্দেশনা দিয়ে সোমবার সারাদেশে চিঠি পাঠানো হয়েছে।গতকাল সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
ঢাকার মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি-বাড়ি দখলচেষ্টা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এ অপরাধ পর্যালোচনা সভা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সভা থেকে কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক কাজে জড়িত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতামত নিতে হবে না- এমন বার্তা দেওয়া হয়।

টাইমস অব বাংলাদেশের শিরোনাম ‘JAPANESE LOANS RAISE CONCERNS FOR GOVT’ অর্থাৎ ‘জাপানি ঋণ সরকারের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে’।
খবরে বলা হচ্ছে, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে জাপান। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পর এটিই দেশটির বৈদেশিক ঋণের বৃহত্তম উৎস।
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ জাপানি অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে, যেমন তুলনামূলক কম সুদের হার, দীর্ঘ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা এবং নমনীয় শর্তাবলি।
তবে সুদের হার বৃদ্ধি, প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ঋণের কঠোর শর্তাবলির কারণে নীতিনির্ধারকরা জাপানি ঋণের ওপর নিজেদের নির্ভরতা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছে, জাপানের অর্থায়নে পরিচালিত দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ভবিষ্যতে অর্থায়নের প্রস্তাব গ্রহণের আগে জাপান থেকে নেওয়া ঋণের শর্তাবলি আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম ‘After 11yrs, BPC gets Tk 4,500cr loan to buy fuel’ অর্থাৎ ‘১১ বছর পর জ্বালানি কেনার জন্য ৪,৫০০ কোটি টাকার ঋণ পেল বিপিসি’।
খবরে বলা হচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে ১১ বছর পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার সুদবিহীন ঋণ দিতে যাচ্ছে সরকার।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারের দামের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি তীব্র আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতেই অর্থায়নের বিষয়টি সামনে এল।
গতকাল অর্থ বিভাগ এক চিঠির মাধ্যমে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরের বাজেটের ‘পরিচালন ঋণ’ খাত থেকে এই অর্থ বরাদ্দ করা হবে।
ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড বা রেয়াতকালসহ পাঁচ বছর মেয়াদে অর্ধ-বার্ষিক কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এজন্য বিপিসিকে অর্থ বিভাগের সাথে একটি আনুষ্ঠানিক ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে এবং এই অর্থ শুধু জ্বালানি-সংক্রান্ত অনুমোদিত ব্যয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে।
এই অর্থায়ন বিপিসিকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে তাদের তাৎক্ষণিক দায়বদ্ধতা পূরণে সহায়তা করবে। কারণ নতুন অর্থায়ন না পেলে জ্বালানি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার মতো তহবিল অক্টোবরের শুরুতেই ফুরিয়ে যেতে পারে বলে সংস্থাটি আগেই সতর্ক করেছিল।

‘হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু ৩০০ কারাবন্দীর’ প্রথম আলোর শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একের পর এক বন্দীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও মৃত্যু হচ্ছে অনেকের। অনেক ক্ষেত্রেই বন্দীর বয়স বেশি নয়। অর্থাৎ অকালমৃত্যু হচ্ছে।
কারা অধিদপ্তর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২৮শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ বছর ৯ মাসে ১ হাজার ১৬ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান অন্তত ৩০০ জন বন্দী।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে বন্দীর মৃত্যুর সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার রাতে। মৃত বন্দীর নাম আবু তাহের (৩৪)।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, আবু তাহেরকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২ থেকে অসুস্থ অবস্থায় গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আনা হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
কারা অধিদপ্তরের গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হিসাব এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চলতি বছরের শুরু থেকে ২৮শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯ মাসে অন্তত ২৫০ জন বন্দী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ফলে চলতি বছর মাসে গড় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৮ জনের। ৫ বছর ৯ মাসের হিসাবে, মাসে গড় মৃত্যু ১৫। দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর বন্দী-মৃত্যু বেশি।

খবরে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে সরকার একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারগুলোয় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে কমেছে কর্মী গমন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বলা হয়েছিল জাপানে যাবে লাখো কর্মী। সে রকম কিছু বাস্তবায়নের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে ২৯শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) বিদেশে কর্মী গমন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে।
আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে বর্তমান সরকারের। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় নয় মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন।
কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে সংখ্যাটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৩-এ নেমে এসেছে। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের নয় মাসে বিদেশে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২০১ জন কর্মী কম গিয়েছেন।

খবরে বলা হচ্ছে, রাত নামলেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ বাড়ছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, টানাপার্টি ও থাবাপার্টির তৎপরতার পাশাপাশি হামলা, ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগও সামনে আসছে।
মোহাম্মদপুর-আদাবর থেকে ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী- বিভিন্ন এলাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগ, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় সংঘর্ষ ও দখলচেষ্টার অভিযোগ- এসব ঘটনায় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত সোমবার রাতেও আদাবরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ গুলি চালালে দু’জন আহত হন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রেফতার হওয়া অনেকেই আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে শুধু মাঠপর্যায়ের ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ বা কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার করে পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

খবরে বলা হচ্ছে, সোনালী ব্যাংকের কর্মী হরেন্দ্রনাথ চন্দ্রর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১৯৮৫ সালে মামলা করে ওই সময়কার দুর্নীতি দমন ব্যুরো। বিচারিক আদালতের রায়ে হরেন্দ্রনাথকে খালাস দেওয়া হয়।
কিন্তু সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১৯৮৮ সালে হরেন্দ্রনাথসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। সেই মামলায় হরেন্দ্রনাথসহ সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ১০০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারিক আদালত।
১৯৯২ সালের ১৯শে আগস্ট ওই রায়ের বিরুদ্ধে হরেন্দ্রনাথের আপিল মঞ্জুর করে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালত বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংক ২০১৯ সালে হাইকোর্টে আপিল করে।
হরেন্দ্রনাথকে চূড়ান্ত বিচার পেতে টানা চার দশক আইনি লড়াই করতে হয়েছে, তখন তিনি ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। এরকম অসংখ্য ঘটনা আছে।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ (চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মার্চ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের আদালতগুলোতে ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৯২১টি মামলা বিচারাধীন।
সরকারের হিসাবে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬। এর মধ্যে অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা।

খবরে বলা হচ্ছে, উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার উড়োজাহাজ ক্রয়ের সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামী অক্টোবরে হতে পারে বলে জানান মন্ত্রী।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সমপ্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা গত ৩০শে এপ্রিল ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলাম। পরে গত ২৩শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নতুন স্বাক্ষরিত ১১টি এয়ারক্রাফটের মধ্যে ৫টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮। ৩০শে এপ্রিল স্বাক্ষরিত ক্রয়চুক্তি অনুযায়ী একই দরে সম্পূরক চুক্তি করা হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথম উড়োজাহাজ ডেলিভারি করা হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বশেষ ডেলিভারি হবে। তবে আমরা ২০২৭-২৮ এর মধ্যে অন্তত একটি বিমান ডেলিভারির জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।

খবরে বলা হচ্ছে, দেশে কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গেই দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে অপতথ্য (ন্যারেটিভ) উৎপাদনকারী সংঘবদ্ধ চক্র। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান তৈরি করে ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে রিলস-ভিডিও।
প্রকৃত তথ্য জানার আগেই এসব অপতথ্য বুঝে কিংবা না বুঝে বিশ্বাস করে ফেলেন সাধারণ মানুষ। যাচাই-বাছাইয়ের আগেই এসব বয়ান জায়গা পায় মূলধারার আলোচনায়। সেখান থেকেই তৈরি হয় নেতিবাচক জনমত। প্রতিষ্ঠিত হয় একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ। সত্য না হলেও তা স্থান করে নেয় মানুষের মনোজগতে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থাকছে দর্শকের ভূমিকায় । ‘দেখি কী হয়’ ধরনের অপেক্ষায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থাও একই। অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় প্রতিক্রিয়া।
আর পরিস্থিতি নেতিবাচক পথে গড়ানোর পর টকশোতে আলোচনা হয়-কেন সরকার ব্যর্থ হলো, কেন শুরুতেই প্রতিরোধ করা গেল না। ঘটনা, অপতথ্য ছড়ানো, জনমত তৈরি এবং পরে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া-প্রতিটি ধাপেই দৃশ্যমান হয় এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা।

খবরে বলা হচ্ছে, আগামী বছরের বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে শঙ্কা এবারও পুরোপুরি কাটছে না। দরপত্রের শর্তের চেয়ে পাঠ্যবইয়ে কম মানের জিএসএমের কাগজ এবং নিম্নমানের কালি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও বাঁধাইয়েও ত্রুটি ধরা পড়েছে।
পাঠ্যপুস্তক ছাপানো এবং বিতরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রেই এসব তথ্য জানা গেছে।
এনসিটিবি সূত্র বলেছে, নিম্নমানের জন্য ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে নিম্নমানের কাগজ ও ছাপার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ফর্মা বাতিল করা হয়েছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে অন্তত ১৪টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বই ছাপার মান ও সার্বিক অবস্থা জানতে গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাজধানীর ছয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বইয়ের গুণগত মান ও ছাপার কাজের অগ্রগতি যাচাই করেন।
সূত্র বলেছে , প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ৮০ জিএসএম এবং মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ৭০ জিএসএম কাগজ ব্যবহারের শর্ত রয়েছে দরপত্রে । কিন্তু কিছু ছাপাখানায় এর চেয়ে কম জিএসএমের কাগজে বই ছাপানোর অভিযোগ উঠেছে।

