নেপালে ভয়াবহ হড়পাবানের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি দেশ। ২৬ অগাস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ, পাথর ও ধসের জেরে তৈরি হওয়া প্রবল স্রোত উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু, স্কুল এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিপর্যয়ের ভয়াবহ ছবি।
৪ সেপ্টেম্বর নেপাল সরকারের সর্বশেষ পরিস্থিতি-রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১,২৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং প্রায় ৫,০৮৩ জন নিখোঁজ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো বিপর্যস্ত থাকায় উদ্ধার এবং নিখোঁজদের পরিচয় যাচাই—দু’টি কাজই কঠিন হয়ে উঠেছে।
– বিজ্ঞাপন –
প্রায় ৬০০ শিশুর খোঁজ নেই
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায়। স্থানীয় শিক্ষা দফতর, প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্কুলের সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুই জেলায় আনুমানিক ৬০০ শিশু এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে।
রাসুয়ায় প্রায় ২৮০ জন এবং নুয়াকোটে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন পড়ুয়ার খোঁজ মিলছে না বলে প্রাথমিক হিসাব। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এই সংখ্যা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এটিকে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান হিসেবে ধরা হচ্ছে না।
নুয়াকোটের শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিটের প্রধান সূর্য বাহাদুর খত্রী জানিয়েছেন, নিখোঁজ পড়ুয়াদের বিষয়ে প্রধানশিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের সন্ধান মিলেছে। আবার নতুন করে বিভিন্ন স্কুল থেকে পড়ুয়া নিখোঁজ থাকার খবরও আসছে। ফলে পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল।
৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত দুই কর্মী
এই ভয়াবহতার মধ্যেই মিলেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা দুই কর্মীকে ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর যৌথ দল তাঁদের উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
উদ্ধার হওয়া দুই কর্মীর নাম সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহার্জন। তাঁরা সুড়ঙ্গের প্রায় ১৭০ মিটার ভিতরে আটকে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে মানুষের আওয়াজ পাওয়ার পর তল্লাশি আরও জোরদার করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়। দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।
তবে বিপদ এখনও কাটেনি। নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু কর্মীর সন্ধান নেই। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
একদিকে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে একের পর এক মানুষের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা—নেপালে উদ্ধার অভিযান এখনও জোরকদমে চলছে। ৯ দিন পর দুই কর্মীর জীবিত উদ্ধারের ঘটনা সেই অভিযানে নিঃসন্দেহে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
