পচা মাংস ফ্রিজে মজুত, আলু-বেবিকর্নে ছত্রাক, মেয়াদোত্তীর্ণ তেল দিয়ে রান্না, আবার নষ্ট ছানা দিয়েই তৈরি হচ্ছে মিষ্টি! রাজ্যজুড়ে হোটেল, রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে স্বাস্থ্যদপ্তরের অভিযানে সামনে এল একাধিক অনিয়ম। শুক্রবার পার্ক স্ট্রিটের নামী রেস্তরাঁগুলির রান্নাঘরে হানা দিয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যসুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ পেয়েছেন আধিকারিকরা।
স্বাস্থ্যদপ্তরের অভিযানে গত তিন দিনে রাজ্যের ২,৩৩৭টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার পার্ক স্ট্রিটে অভিযানের সময় করিমস, ডন জিওভানি, তুংফংয়ের মতো রেস্তরাঁয় রান্নার সামগ্রী ও খাবারের মান নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ তেল, ছত্রাক ধরা আলু ও বেবিকর্ন এবং নষ্ট ছানা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে মোক্যাম্বো ও আর্সেলানের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
বৃহস্পতিবার ট্যাংরার একাধিক রেস্তরাঁয়ও অভিযান চালানো হয়। সেখানেও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণে নানা অনিয়মের সন্ধান মেলে বলে আধিকারিকদের দাবি।
শুধু নামী রেস্তরাঁ নয়, ছোট খাবারের দোকান ও মিষ্টির দোকানেও চলেছে অভিযান। সোনারপুরের ‘বাবুর্চি’ রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কামালগাজির একটি মিষ্টির দোকান এবং ধনেখালির একটি আইসক্রিমের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বনগাঁর বাগদাতেও অভিযানে উঠে এসেছে একই ছবি। বৃহস্পতিবার একটি সস কারখানা সিল করার পর শুক্রবার বাগদা মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে এসিবি, জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর এবং বাগদা পুলিশের যৌথ অভিযান হয় হেলেঞ্চা বাজারে। সেখানে রবীন্দ্র মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের দইয়ে ছত্রাক পাওয়া যায় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। কারখানার রান্নাঘর অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ছিল এবং মিষ্টি তৈরিতে ক্ষতিকারক রং ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। অভিযানের সময় নষ্ট ও অনুপযুক্ত সামগ্রী ফেলে দেওয়া হয়।
বহরমপুর থেকে আলিপুরদুয়ার—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও খাদ্যসুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহরমপুরের বিশ্বাস বেকারি এবং আলিপুরদুয়ারের শীতল সুইটস অ্যান্ড স্ন্যাক্স সিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মোট ১৭টি রেস্তরাঁ ও দোকান সিল করা হয়েছে। পাঁচটি দোকানের লাইসেন্স বাতিল এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা সাময়িক বলেই জানিয়েছেন তিনি। খাবারের মান এবং পরিচ্ছন্নতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি ফের চালু করার সুযোগ পাবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।
সূত্র প্রতিদিন
