স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এখন ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে তিসিবীজ (Flaxseed)। ছোট এই বীজে রয়েছে ওমেগা-থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিড, খাদ্যআঁশ অর্থাৎ ফাইবার এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে তিসিবীজ খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ, হজমশক্তি উন্নত করা এবং হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
কী কী পুষ্টি রয়েছে তিসিবীজে?
তিসিবীজে রয়েছে ওমেগা-থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিড, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, শর্করা এবং পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ। যদিও এটি উদ্ভিজ্জ উৎস হওয়ায় শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড এতে পাওয়া যায় না, তবুও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে খেলে এর পুষ্টিগুণ আরও বৃদ্ধি পায়।
– বিজ্ঞাপন –
মাত্র এক টেবিল চামচ তিসিবীজে পাওয়া যায়—
- প্রায় ৫৫ ক্যালরি
- প্রায় ২ গ্রাম প্রোটিন
- প্রায় ৩ গ্রাম খাদ্যআঁশ
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম খাদ্যআঁশ প্রয়োজন। সেই চাহিদার একটি অংশ সহজেই পূরণ করতে পারে তিসিবীজ।
আঁশসমৃদ্ধ খাবার ধীরে হজম হয়। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং বারবার ক্ষুধা লাগে না। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ গ্রহণ করলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় না। পাশাপাশি তিসিবীজে থাকা দ্রবণীয় আঁশ রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, এতে থাকা ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে। ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে তিসিবীজ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
হজমশক্তি ভালো রাখে
নিয়মিত আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। তিসিবীজ সেই প্রয়োজনীয় আঁশের একটি ভালো উৎস।
গোটা নয়, গুঁড়া করে খাওয়াই ভালো
তিসিবীজের বাইরের আবরণ শক্ত হওয়ায় গোটা বীজ সহজে হজম হয় না। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, গুঁড়ো করে খেলে এর পুষ্টি উপাদান শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
যাঁদের আগে খাওয়ার অভ্যাস নেই, তাঁদের অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
কীভাবে খাবেন তিসিবীজ?
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তিসিবীজ যোগ করা খুবই সহজ। যেমন—
- ফলের রস বা জলের সঙ্গে মিশিয়ে
- রুটির আটার সঙ্গে মিশিয়ে
- কুকি বা মাফিন তৈরিতে
- টক দই বা ওটসের সঙ্গে
- সালাদ, স্যুপ, স্মুদি বা মিল্কশেকে
- অল্প আঁচে বা ভাপে রান্না করা খাবারের ওপর ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে।
- এ ছাড়া যাঁরা ডিম খান না, তাঁদের জন্য তিসিবীজের গুঁড়ো বিভিন্ন খাবারে পরিমাণ মতো ছড়িয়ে খেলে, ডিমের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
মনে রাখবেন
যদিও তিসিবীজ অত্যন্ত পুষ্টিকর, তবে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু বাধা নিষেধ থাকতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে তিসিবীজ গ্রহণ করলে তবেই এর সর্বাধিক উপকার পাওয়া সম্ভব। তবে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত তিসিবীজ যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
