ট্রাফিক আইন ভাঙার অভ্যাস রয়েছে? তা হলে এবার থেকে শুধু জরিমানা দিয়েই পার পাওয়া যাবে না। প্রতিটি ট্রাফিক অপরাধের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC)-তে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। নির্দিষ্ট সীমার বেশি পয়েন্ট কাটা গেলে লাইসেন্স সাসপেন্ড, এমনকি বাতিলও করা হতে পারে।
৬৬তম SIAM Annual Convention-এ এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। তাঁর কথায়, নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য একদিকে যেমন বারবার ট্রাফিক আইন ভাঙা চালকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা, অন্যদিকে নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো ব্যক্তিদের উৎসাহ দেওয়া।
– বিজ্ঞাপন –
কী ভাবে কাজ করবে নতুন পয়েন্ট ব্যবস্থা?
গডকড়ীর প্রস্তাবিত graded point system-এ প্রতিটি ট্রাফিক অপরাধের জন্য চালকের লাইসেন্সে পয়েন্ট কাটা হবে। একই ভাবে গাড়ির RC-তেও পয়েন্ট কমার ব্যবস্থা থাকবে। নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পয়েন্ট কাটা যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তবে এখনও কত পয়েন্টে কোন অপরাধের জন্য কী শাস্তি হবে, সেই বিস্তারিত নিয়ম চূড়ান্ত হয়নি। অর্থাৎ এটি এখনও প্রস্তাবিত ব্যবস্থা, কার্যকর আইন নয়।
অন্য দিকে, যাঁদের রেকর্ড ভালো থাকবে, তাঁদের জন্য পুরস্কার বা বিশেষ সুবিধার কথাও ভাবা হচ্ছে। গডকড়ী জানিয়েছেন, ভালো রেকর্ড থাকা চালকরা ভবিষ্যতে বিমা সংস্থা বা অন্য সংস্থার কাছ থেকে কিছু সুবিধা পেতে পারেন।
চালকদের প্রশিক্ষণেও জোর
শুধু জরিমানা বা শাস্তি নয়, চালকদের আচরণ পরিবর্তনের উপরও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। দেশজুড়ে ১,৬০০টি Driving Training Centre তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ২৪টি ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে এবং আরও ১১২টি তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
গডকড়ীর বক্তব্য, ভারতে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ চালকদের আচরণ ও ভুল। তাই প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি বারবার নিয়ম ভাঙা চালকদের জবাবদিহির আওতায় আনাও জরুরি।
২০২৭ থেকে বদলাবে গাড়ির সেফটি টেস্ট
এর পাশাপাশি Bharat NCAP 2.0 চালুর কথাও জানিয়েছেন গডকড়ী। ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে এই নতুন পর্যায়ের গাড়ি নিরাপত্তা মূল্যায়ন ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শুধু দুর্ঘটনার সময় গাড়ির ভিতরের যাত্রী কতটা সুরক্ষিত থাকছেন, তা নয়—দুর্ঘটনা এড়ানো, পথচারীর সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও চিকিৎসার মতো পুরো ‘crash chain’-কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পুরনো BS-IV গাড়ির জন্য নতুন ডিভাইস
পুরনো BS-IV গাড়ির দূষণ নিয়ন্ত্রণেও নতুন প্রযুক্তির কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সাফল্য পাওয়া একটি emission-control device পুরনো গাড়িতে বসানো হলে নির্গমন BS-VI মানের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। ডিভাইসটির আনুমানিক দাম ৪,০০০-৫,০০০ টাকা বলে জানানো হয়েছে।
দেশে বছরে প্রায় ৫ লক্ষ দুর্ঘটনা
ভারতে সড়ক নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গডকড়ী জানিয়েছেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ লক্ষ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং প্রায় ১.৮ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। মৃতদের বড় অংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। দুর্ঘটনা কমাতে গাড়ি, চালক, রাস্তা এবং দুর্ঘটনার পরবর্তী ব্যবস্থাপনা—পুরো ব্যবস্থাটিকেই আরও নিরাপদ করার উপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
তবে মনে রাখতে হবে, লাইসেন্সে পয়েন্ট কাটার প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি বা বিধি জারি হলে তবেই জানা যাবে কোন অপরাধে কত পয়েন্ট কাটা হবে এবং ঠিক কত পয়েন্টে লাইসেন্স বা RC-র বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
