কলকাতা: ঝাড়খণ্ডের একটি মাওবাদী নাশকতা সংক্রান্ত মামলার তদন্তে কলকাতা ও নদিয়ায় তল্লাশি অভিযান চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের দু’টি জায়গায় এবং নদিয়ার একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নথি ও প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পাশাপাশি তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝাড়খণ্ডে তলব করা হয়েছে।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান। ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ তদন্তকারীদের একটি দল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী তথা বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্টের সম্পাদক তথাগত রায় চৌধুরীর বাড়িতে পৌঁছয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
অভিযোগ, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর আওতায় তাঁকে তলব করেছে এনআইএ। আগামী ২৪ জুন রাঁচিতে সংস্থার দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
একই সময়ে কলকাতার গবেষক ঝিলম রায়-এর বাড়িতেও তল্লাশি চালায় এনআইএ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর), এনআরসি-সহ বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি থেকেও জাতীয় ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দাবি। তাঁকেও ২০২২ সালের ওই মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাঁচিতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, নদিয়ার কৃষক নেতা ও গণ-আন্দোলন কর্মী সুকুমার কয়াল-কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনআইএ। পেশায় শিক্ষক সুকুমারের সঙ্গে তাঁর স্কুলে গিয়ে কথা বলেন তদন্তকারীরা। পরে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। সংগঠনের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থা এই অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের হেনস্থা করাই ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। সেই কারণেই ভোরের আলো ফোটার আগেই বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এপিডিআর-এর।
বিজ্ঞাপন
মানবাধিকার সংগঠনটির আরও দাবি, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী মতের মানুষদের চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তথাগত রায় চৌধুরী, ঝিলম রায় এবং সুকুমার কয়ালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা।
তবে এনআইএ সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থেই এই তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পদক্ষেপ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
