
কিংবদন্তি ভারতীয় শিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। ২০২৫ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরে আকস্মিক মৃত্যুর পর থমকে গিয়েছিল পুরো আসাম। শোক নেমে এসেছিল ভারতের সর্বত্র।
এক বছর পরও তার গান, স্মৃতি ও সৃষ্টির মধ্যেই যেন তাকে খুঁজে ফিরছেন অগণিত ভক্ত। একই সঙ্গে তার মৃত্যুকে ঘিরে ভারতে চলমান হত্যা মামলার বিচারও এখনো শেষ হয়নি।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে সাঁতার কাটতে গিয়ে জুবিন গার্গ অসুস্থ হয়ে পানিতে অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত উদ্ধার করে সিপিআর দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
জুবিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় আসাম। ভারতের এই রাজ্যজুড়ে নেমে আসে অভূতপূর্ব শোকের আবহ। তার শেষযাত্রায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির কাছে সোনাপুরের কামারকুচিতে অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে আনুমানিক ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই জনসমাগম শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে জুবিনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। সিঙ্গাপুরের তদন্তে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আসামে তদন্তের গতিপথ ভিন্ন দিকে এগোয়।
জুবিন একটি ব্যক্তিগত ইয়টে করে লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে গিয়েছিলেন। পরদিন তার নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসামে ৬০টির বেশি এফআইআর দায়ের হয়। এরপর রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে।
তদন্তের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি হত্যা মামলার দিকে মোড় নেয়। ২০২৫ সালের ১ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আসাম পুলিশ। তাদের মধ্যে ছিলেন সিঙ্গাপুরের অনুষ্ঠানটির আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, সংগীতশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্ত ও শেখর জ্যোতি গোস্বামী, জুবিনের চাচাতো ভাই সন্দীপন গার্গ এবং তার দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে এসআইটি প্রায় আড়াই হাজার পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করে। মামলার নথিপত্রের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জুবিন অসংখ্য স্মরণীয় গান উপহার দিয়েছেন। ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ‘ইয়া আলি’ তো বটেই, তার কণ্ঠে ‘কৃষ ৩’ সিনেমার ‘দিল তু বাতা’সহ বহু গান পেয়েছে শ্রোতাপ্রিয়তা। যেগুলো চার্টবাস্টার হয়ে উঠেছিল এবং ভারতব্যাপী মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে।
শুধু হিন্দি গান নয়, বাংলা সিনেমাতেও তার কণ্ঠে বহু গান পেয়েছে ভীষণ শ্রোতাপ্রিয়তা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সিনেমায়। এমনকি বাংলাদেশি সিনেমা ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ সিনেমায় ‘ঢাকার পোলা’ গানটিতেও কণ্ঠ দিয়েছেন জুবিন।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
