খবর অনলাইন ডেস্ক: রাজস্থানের জয়পুরে নীরজ শর্মা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সামনে এল নতুন দাবি। এ বার অভিযুক্ত আয়ুষি শর্মার বিরুদ্ধে তাঁর বাবা বিজয় শর্মার মৃত্যুতেও জড়িত থাকার অভিযোগ তুললেন নীরজের ভাই তথা আয়ুষির মামা রাকেশ শর্মা। তাঁর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ৩ জুলাই নীরজ শর্মাকে সুপারি কিলারের মাধ্যমে খুন করানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন তাঁর মেয়ে আয়ুষি। অভিযোগ, গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার পর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত চলাকালীনই সামনে আসে বিজয় শর্মার মৃত্যুকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন।
– বিজ্ঞাপন –
রাকেশ শর্মার দাবি, বিজয় শর্মা সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়। পরে সহানুভূতির ভিত্তিতে সেই চাকরি পান তাঁর স্ত্রী নীরজ শর্মা, কারণ তাঁদের এক প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, বাবার চাকরি নিজে পাওয়ার আশা করেছিলেন আয়ুষি। কিন্তু চাকরি না পাওয়ায় মায়ের প্রতি তাঁর ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
রাকেশ শর্মার অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বিজয় শর্মার চিকিৎসা চলছিল এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থও হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু সেই সময় আয়ুষি বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়ার কথা বলে তাঁকে তুতো ভাই বলরামের সঙ্গে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এরপর প্রায় তিন মাস পরিবারের অন্য সদস্যরা বিজয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
রাকেশের দাবি, তিন মাস পর আয়ুষি জানান, জয়পুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বিজয়। হাসপাতালে গিয়ে আত্মীয়রা জানতে পারেন, তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত। পরে আয়ুষিই তাঁকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। কীভাবে শরীরের এত বড় ক্ষতি হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিজয়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি আয়ুষি গোপন করে রেখেছিলেন। ২০২৪ সালে বিজয়ের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সেই বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হয়নি। ২০২৫ সালে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
রাকেশ শর্মার আরও দাবি, বাবার মৃত্যুর আগে নীরজ শর্মার সঙ্গে আয়ুষির বচসা হয়েছিল। সেই সময় তিনি নাকি মাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “বাবার ফিডিং টিউব খুলে দিলে এক মুহূর্তও লাগবে না মৃত্যু হতে।” পাশাপাশি, হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে তিনি লিখেছিলেন, “আর দু’দিন পরেই নিজের মতো করে বাঁচতে পারবেন।” এই ঘটনাগুলিকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, জেরায় আয়ুষি স্বীকার করেছেন যে, তুতো ভাই বলরামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বাবার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নতুন অভিযোগের বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত তথ্য, চিকিৎসার নথি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
