রাজ্যের শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ লাড জানিয়েছেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্যে ন্যূনতম মজুরি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এই মজুরি কাঠামোর ফলে রাজ্যের ৮১টি নির্ধারিত ক্ষেত্রে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিক উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার শ্রম দফতরের তরফে জারি হওয়া সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অসংগঠিত ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের শ্রমিকদের আরও আর্থিক সুরক্ষা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এ বার প্রথমবারের জন্য সমস্ত নির্ধারিত কর্মসংস্থানকে একটি একক বিজ্ঞপ্তির আওতায় আনা হয়েছে। আগে চারটি পৃথক ক্ষেত্রভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় রাজ্যকে তিনটি মজুরি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

জোন-১-এ রাখা হয়েছে বৃহত্তর বেঙ্গালুরু এলাকা।
জোন-২-এ রয়েছে অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও জেলা সদরগুলি।
আর জোন-৩-এ রাখা হয়েছে বাকি গ্রামীণ ও ছোট শহরাঞ্চল।

শ্রমিকদের চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে— অদক্ষ, অর্ধদক্ষ, দক্ষ এবং উচ্চ দক্ষ।

জোন-১ এলাকায় উচ্চ দক্ষ শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ১১৪ টাকা। দক্ষ শ্রমিকদের জন্য তা ২৮ হাজার ২৮৫ টাকা। অর্ধদক্ষ শ্রমিকরা পাবেন ২৫ হাজার ৭১৪ টাকা এবং অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ধার্য হয়েছে ২৩ হাজার ৩৭৬ টাকা।

অন্যদিকে, গ্রামীণ ও ছোট শহরাঞ্চল নিয়ে গঠিত জোন-৩ এলাকায় অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়েছে ১৯ হাজার ৩১৯ টাকা। সেখানে উচ্চ দক্ষ শ্রমিকদের জন্য মজুরি ২৫ হাজার ৭১৪ টাকা।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সাফাইকর্মী ও স্যানিটেশন কর্মীদের জন্য আলাদা মজুরি কাঠামোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাপবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, সৌর ও বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্যও পৃথক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু অঞ্চলে যান্ত্রিক স্যানিটেশন কাজে যুক্ত শ্রমিকদের মাসিক বেতন ২৫ হাজার ৭০০ টাকারও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও নতুন তালিকায় বেসরকারি স্কুল-কলেজের অশিক্ষক কর্মী, ই-কমার্স ও কুরিয়ার পরিষেবা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, মোবাইল টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণ, এলপিজি বিতরণ ইউনিট, এম-স্যান্ড ইউনিট এবং কম্পিউটার ও সাইবার সেন্টারকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, একই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে পুরুষ, মহিলা, তৃতীয় লিঙ্গ এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সমান মজুরি দিতে হবে। ওভারটাইম বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করালে শ্রমিকদের দ্বিগুণ বেতন দিতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সের ভিত্তিতে প্রতি বছর ভ্যারিয়েবল ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স সংশোধন করা হবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বা অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মাসে ২৬ কার্যদিবস ধরে দৈনিক মজুরি হিসাব করা হবে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বেতন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *